প্রথম পাতা খবর ‘৯১ লক্ষ নাম বাদ! এসআইআর নিয়ে বিস্ফোরক পারকালা, বাংলায় ভোটাধিকার নিয়েই প্রশ্ন’

‘৯১ লক্ষ নাম বাদ! এসআইআর নিয়ে বিস্ফোরক পারকালা, বাংলায় ভোটাধিকার নিয়েই প্রশ্ন’

100 views
A+A-
Reset

ভোটমুখী বাংলায় এসআইআর (SIR) ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। বিরোধীদের দাবি, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র অজুহাতে পরিকল্পিতভাবেই বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের নির্দেশেই এই কাজ করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এই আবহেই রবিবার কলকাতার প্রেস ক্লাবে ‘এডুকেশনিস্ট ফোরাম’-এর উদ্যোগে এক সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ পারকালা প্রভাকর, যিনি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ-এর স্বামী হিসেবেও পরিচিত।

সাংবাদিক বৈঠকে তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর বক্তব্য, “আমি বাংলা এবং তামিলনাড়ুতে গিয়েছি। বাংলায় যা দেখছি তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এখন সরকারই ঠিক করছে কে ভোট দেবে আর কে দেবে না। এসআইআর প্রক্রিয়ায় সর্বাধিক হাজার দুয়েক নাম বাদ যেতে পারে, কিন্তু তা কখনও লক্ষের ঘরে পৌঁছতে পারে না।”

তিনি আরও দাবি করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে বিপজ্জনক ইঙ্গিত।

শুধু বাংলার প্রসঙ্গ নয়, এর আগেও অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন পারকালা। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ১৩ মে রাত থেকে ১৪ মে ভোরের মধ্যে অস্বাভাবিক হারে ভোট পড়েছে। প্রায় ৫২ লক্ষ ভোট স্বল্প সময়ে পড়ার ঘটনা এবং মধ্যরাতের পর ১৭ লক্ষ ভোট পড়া—এই পরিসংখ্যানকে তিনি ‘বাস্তবসম্মত নয়’ বলেই দাবি করেন। এমনকি কোথাও ৬ সেকেন্ডে একটি ভোট পড়ার হিসাবও সামনে এসেছে, যা প্রযুক্তিগতভাবেও অসম্ভব বলে তাঁর বক্তব্য।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-ও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ভোট প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হতে পারে এবং ভোটার তালিকা নিয়েও কারচুপির সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও কি ‘অন্ধ্র মডেল’-এর পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে বাংলায়? রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে এই নিয়েই।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.