রাজ্যে সরকার গঠনের প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু করে দিল বিজেপি। আগামী ৯ মে পঁচিশে বৈশাখ ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে বুধবার নবান্নে বৈঠকে যান বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় মাহাতো এবং সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার সঙ্গে শপথ অনুষ্ঠান সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিয়েই তাঁদের আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে।
নবান্নে ঢোকার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ভোট-পরবর্তী হিংসা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে যে হিংসার ছবি সামনে আসছে, তার অনেকটাই ‘তৃণমূল বনাম তৃণমূল’-এর সংঘর্ষ। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির পতাকা হাতে কেউ যদি হামলা চালায়, তার দায় দল নেবে না। কারণ এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপি ক্ষমতায় আসেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিন দলবদল নিয়েও কড়া বার্তা দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। শমীক বলেন, “বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ হতে দেব না।” তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতার পরিবর্তনের আঁচ পেয়েই অনেকেই এখন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে বাংলায় বিজেপির সংগঠন তৈরি করেছেন, তাঁদের গুরুত্বই সবচেয়ে বেশি থাকবে বলে জানান তিনি। প্রয়োজনে রাস্তায় নেমেও কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেন শমীক।
একই সঙ্গে তিনি আরও দাবি করেন, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেও দলের কর্মীরাই আক্রান্ত হচ্ছেন। ইতিমধ্যেই দু’জন বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর অভিযোগও তোলেন তিনি। তবে হিংসা উস্কে দিলে দলের কোনও নেতা-নেত্রীকেও রেয়াত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানান শমীক। তাঁর কথায়, “যে-ই হোক, বিজেপির নাম করে হিংসা ছড়ালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এমনকি প্রয়োজনে গ্রেফতারির দাবিও জানানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিজেপি সূত্রে খবর, আগামী শনিবার ব্রিগেডের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah। যদিও মুখ্যমন্ত্রী পদে কে শপথ নেবেন, তা এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করা হয়নি।