বিজেপি সরকারের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক সোমবার নবান্নে। তার আগে সকাল থেকেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বাড়ছে জল্পনা। বৈঠকের আগে সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে ‘জনতার দরবারে’ হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ তিনি সেখানে পৌঁছন। দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগও শোনেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়।
এদিনের মন্ত্রিসভা বৈঠকের দিকে বিশেষ নজর রয়েছে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের। বেতন সংশোধন, বকেয়া ডিএ, সপ্তম বেতন কমিশন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক সংস্কার ও দুর্নীতি রুখতে সরকার কী পদক্ষেপ নিতে চলেছে, সেই ইঙ্গিতও মিলতে পারে।
অন্যদিকে, বিএসএফকে জমি হস্তান্তর-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত সোমবার সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, দ্বিতীয় বৈঠকে আর জি কর কাণ্ড, নারী নির্যাতন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, পে কমিশন ও বকেয়া ডিএ-র মতো বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে ইতিমধ্যেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে যুক্ত হওয়া, বিএসএফকে জমি হস্তান্তর, সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি এবং অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, সরকার গঠনের পর খুব কম সময়ের মধ্যেই প্রথম বৈঠক করতে হয়েছিল। তাই সব বিষয়ে আলোচনা সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয় বৈঠকেই সেই বাকি ইস্যুগুলি নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
সবচেয়ে বেশি নজরে রয়েছে সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ। সুপ্রিম কোর্ট আগেই বকেয়া মহার্ঘভাতা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। যদিও আগের সরকার আদালতের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধ করতে পারেনি। ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত কিছু অংশের ডিএ মেটানো হলেও ২০০৮ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত বকেয়া এখনও মেলেনি।
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকারি কর্মীদের একাংশ আশাবাদী, এবার হয়তো সম্পূর্ণ বকেয়া ডিএ মেটানোর পথে হাঁটতে পারে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় হারে ডিএ ও নতুন বেতন কাঠামো নিয়েও আলোচনা চলছে বলে অর্থ দপ্তর সূত্রে খবর।
বিজেপির নির্বাচনী সংকল্পপত্রে সপ্তম বেতন কমিশনের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। সরকারি কর্মীদের দাবি, সপ্তম বেতন কমিশন চালু হলে বেতনে বড় বৃদ্ধি হবে। তাই সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সরকারি কর্মচারী থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই।