পুনর্নির্বাচনের আগে মনোবল ভাঙার চেষ্টা ও মিথ্যা এফআইআরের জেরে গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান।
অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাই রক্ষাকবচ চেয়ে সোমবার হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেন তিনি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়েছে। সোমবার দুপুর ২টোয় মামলাটি শোনার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফলতার ‘ডাকাবুকো’ নেতা হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গির খান। ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে থেকেই শিরোনামে তিনি। ভোটের আগে উত্তরপ্রদেশের দুঁদে পুলিশ আধিকারিক ‘সিংহম’ অজয় পাল শর্মাকে পুলিশ পর্যবেক্ষক পাঠায় নির্বাচন কমিশন।
২৯ এপ্রিল ভোটের আগে পুলিশ পর্যবেক্ষকের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই জাহাঙ্গির বলেছিলেন, ‘পুষ্পা ঝুঁকেগা নেহি’। কিন্তু তারপর গেরুয়া শিবিরের ঝড়ে কার্যত পর্যুদস্ত হয় তৃণমূল। তার মধ্যেই ফলতার ভোট বাতিল হয়ে যায়।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে আগামী ২১ মে ফলতায় পুনর্নির্বাচন। ২৪ মে ফলপ্রকাশ। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে কার্যত গৃহবন্দি হয়ে যান জাহাঙ্গির। তবে গত ১৫ মে তাঁকে আবার নিজের কার্যালয়ে ঢুকতে দেখা যায়।
পুনর্নির্বাচন নিয়ে তিনি মোটেও চিন্তিত নন বলে দাবি করেন। ‘পুষ্পা’ স্টাইলেই তাঁর বক্তব্য, ‘ফলতার মানুষের উপর বিশ্বাস রয়েছে। মানুষ যা রায় দেবেন, মাথা পেতে নেব।’
গত শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার ফলতায় রাজনৈতিক সভা করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে জাহাঙ্গিরের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কোথায় পুষ্পা? দেখা পাওয়া যাচ্ছে না কেন? এবার কাউকে অশান্তি করতে দেওয়া হবে না।’
শুধু তাই নয়, শুভেন্দু আরও জানান, ২০২১ সালে ভোটোত্তর হিংসায় ১৯ জন কুখ্যাত অপরাধীর নাম জানিয়েছিল মানবাধিকার কমিশন। সেই তালিকায় ছিল জাহাঙ্গিরের নাম। ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। এরপরই রক্ষাকবচের আর্জি নিয়ে হাই কোর্টে যান জাহাঙ্গির খান। আসন্ন পুনর্নির্বাচন ঘিরে এখন চরম উত্তপ্ত ফলতার রাজনীতি। আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকে তাকিয়ে সকলে।