অবশেষে অপেক্ষার অবসান। ২২ বছর পর আবার জাতীয় স্তরে ট্রফি জিতল ইস্টবেঙ্গল। শুধু তাই নয়, প্রথম বার আইএসএল চ্যাম্পিয়নও হল লাল-হলুদ ব্রিগেড। কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে ইন্টার কাশীকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন অস্কার ব্রুজ়োর ছেলেরা।
শেষ ম্যাচের আগে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান— দু’দলেরই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ ছিল। তবে ইস্টবেঙ্গলকে পয়েন্ট নষ্ট করতে হত এবং মোহনবাগানকে জিততেই হত। যুবভারতীতে এসসি দিল্লিকে ২-১ গোলে হারালেও গোলপার্থক্যে পিছিয়ে থাকায় দ্বিতীয় স্থানেই শেষ করতে হল সবুজ-মেরুনকে। দুই দলেরই পয়েন্ট দাঁড়ায় ১৩ ম্যাচে ২৬। কিন্তু গোলপার্থক্যে এগিয়ে থেকে ট্রফি জিতে নেয় ইস্টবেঙ্গল।
কিশোর ভারতীতে ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ভাল হয়নি লাল-হলুদের। ১৪ মিনিটে সুমিত পাসির লম্বা বলে আলফ্রেড প্লানাস গোল করে এগিয়ে দেন ইন্টার কাশীকে। পিছিয়ে পড়লেও আক্রমণ থামায়নি ইস্টবেঙ্গল। একের পর এক সুযোগ তৈরি হলেও প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের ছবি। ৪৯ মিনিটে ইন্টার কাশীর গোলরক্ষক শুভম ধাসের ভুলের সুযোগ নিয়ে সমতা ফেরান ইউসেফ এজ়েজারি। এই মরসুমে সর্বাধিক গোল করে সোনার বুটও জিতলেন তিনি।
সমতায় থেমে থাকতে চাননি কোচ অস্কার ব্রুজ়ো। আক্রমণে আরও জোর বাড়ান তিনি। অবশেষে ৭২ মিনিটে বিপিন সিংহের ক্রসে পা ছুঁইয়ে জয়সূচক গোল করেন রশিদ। মরসুমে সেটাই ছিল তাঁর প্রথম গোল, আর সেই গোলেই ইতিহাস গড়ে ফেলল ইস্টবেঙ্গল।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে কিশোর ভারতী স্টেডিয়াম। কোচ, ফুটবলার এবং সমর্থকদের বাঁধনভাঙা আনন্দে লাল-হলুদে রাঙা হয়ে ওঠে গোটা মাঠ। দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষা শেষে আবার ভারতসেরা হল ইস্টবেঙ্গল।