কলকাতা: তৃণমূলের অন্দরের সংঘাত আরও তীব্র হল। ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায়, জাভেদ খান-সহ একাধিক নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করল কালীঘাট তৃণমূল। সোমবার রাতে তাঁদের শোকজ করা হলেও সেই নোটিসের জবাবের জন্য অপেক্ষা না করেই মঙ্গলবার বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায়, জাভেদ খান, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, সাবিনা ইয়াসমিন এবং স্নেহাশিস চক্রবর্তীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এঁদের অধিকাংশই ইতিমধ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল শিবিরে যোগ দিয়েছেন এবং নতুন ঘোষিত কমিটিতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন।
সোমবার নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে বিদ্রোহী শিবিরের বিশেষ অধিবেশনে নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও স্থান হয়নি। হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ চার জনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
বিদ্রোহী শিবিরের সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত দাবি করেন, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস-সহ একাধিক প্রবীণ নেতা তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। মঞ্চে অরূপ রায়, সাবিনা ইয়াসমিন এবং প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনার জন্ম দেয়।
এরপরই সোমবার রাতে কালীঘাট তৃণমূলের তরফে সংশ্লিষ্ট নেতাদের শোকজ করা হয়। দলের বিরুদ্ধে কার্যকলাপ এবং বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে প্রকাশ্যে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। তবে শোকজের উত্তর পাওয়ার আগেই মঙ্গলবার বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জাভেদ খানও দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। অন্যদিকে, স্নেহাশিস চক্রবর্তী সম্প্রতি সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন।
রাজ্য রাজনীতিতে এই বহিষ্কারের ঘটনায় তৃণমূলের অন্দরের বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী দিনে আরও কিছু নেতা বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিতে পারেন বলে যে ইঙ্গিত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়েছেন, তা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে।