প্রথম পাতা খবর ডিজেল বিক্রিতে কেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞা, সংকটে রাজ্যের ৩ হাজার বেকারি-বিস্কুট কারখানা; বাড়তে পারে পাউরুটির দাম

ডিজেল বিক্রিতে কেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞা, সংকটে রাজ্যের ৩ হাজার বেকারি-বিস্কুট কারখানা; বাড়তে পারে পাউরুটির দাম

6 views
A+A-
Reset

শিল্পে ব্যবহারের জন্য খোলা পাত্র, জ্যারিকেন বা ড্রামে ডিজেল বিক্রিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞায় চরম সংকটে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের বেকারি ও বিস্কুট শিল্প। শিল্প মহলের দাবি, এই সিদ্ধান্তের জেরে রাজ্যের প্রায় ৩ হাজার বেকারি ও বিস্কুট কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে পাউরুটির দাম বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বেকারি সংগঠন।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক দেশের তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছে, পেট্রল পাম্প থেকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক যানবাহনেই ডিজেল ও পেট্রোল সরবরাহ করা যাবে। খোলা পাত্র, জ্যারিকেন বা ড্রামে জ্বালানি বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে জলপথ পরিবহণের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।

কলকাতায় ইন্ডিয়ান অয়েলের এক মুখপাত্র জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও যুদ্ধবিরতির পরও এই নির্দেশিকা কবে প্রত্যাহার করা হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ বেকারি অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, ডিজেল না পাওয়ায় রাজ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশ বেকারি উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে। গ্রামাঞ্চলের বহু ছোট বেকারি ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণভাবে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এই শিল্পের সঙ্গে প্রায় ২৫ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোম, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পাউরুটি সরবরাহ করা হয়। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গা থেকে অতিরিক্ত দামে পাউরুটি বিক্রির অভিযোগ আসতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে সংগঠন।

এই পরিস্থিতিতে গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বেকারি অ্যাসোসিয়েশন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্যসচিবের কাছে জরুরি ভিত্তিতে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। সংগঠনের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত এই নির্দেশিকা প্রত্যাহার না করলে উৎপাদন ব্যয় সামাল দিতে পাউরুটির দাম বৃদ্ধি করা ছাড়া আর কোনও বিকল্প থাকবে না।

শিল্প মহলের আশঙ্কা, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে শুধু বেকারি শিল্পই নয়, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং লক্ষাধিক শ্রমিকের জীবিকাও বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.