কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কর্মীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠছে। এই পরিস্থিতিতে দলীয় কর্মীদের আইনি সহায়তা দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিল কালীঘাট তৃণমূল। মঙ্গলবার ‘এক ডাকে অভিষেক’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচির সূচনা করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় ঘরছাড়া, নিপীড়িত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় জড়িয়ে পড়া কর্মীদের জন্য চালু করা হয়েছে একটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন। প্রকাশিত পোস্টারে বলা হয়েছে, “নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় বিজেপির অত্যাচারে ঘরছাড়া, নিপীড়িত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলায় জড়িত কর্মীদের আইনি সহায়তা দিতে এই উদ্যোগ।” সাহায্যের জন্য একটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে— ৭৮৮৭৭৭৮৮৭৭।
পালাবদলের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, তাদের নেতা-কর্মীদের উপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে এবং বহু কর্মী ঘরছাড়া হয়েছেন। যদিও বিজেপির তরফে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে তাদের দলের কোনও যোগ নেই। বরং কোনও বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিদ্রোহী তৃণমূলের একাংশও দাবি করেছে যে, নিচুতলার কর্মীদের উপর অত্যাচারের ঘটনাই তাদের কালীঘাট তৃণমূল থেকে দূরে সরে যাওয়ার অন্যতম কারণ। তাদের বক্তব্য, অত্যাচারিত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতেই তাঁরা পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনের পর তৃণমূলের সাংগঠনিক ভাঙন এবং নেতা-কর্মীদের দলত্যাগের ঘটনায় নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রয়োজন ছাড়া প্রকাশ্যে আসছেন না। এর ফলে সংগঠনের কর্মীদের একাংশ নিজেদের ‘একাকী’ মনে করছেন।
এই আবহেই ‘এক ডাকে অভিষেক’ কর্মসূচি শুরু করল কালীঘাট তৃণমূল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নিচুতলার কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা দিতে চাইছে দল। তবে এই পদক্ষেপে দল ছেড়ে যাওয়া কর্মী-সমর্থকদের ফেরানো সম্ভব হবে কি না, তা সময়ই বলবে।
এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের পর এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও ‘ভিউ কাটার’ বসানোর কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর বাড়ির গেটের সামনের অংশ ঢেকে দেওয়ার কাজ করতে দেখা যায়। ফলে বাইরে থেকে আর বাড়ির ভিতরের অংশ দেখা যাবে না।