প্রথম পাতা খবর পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি কার্যকরের পথে বড় পদক্ষেপ, রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি; অগস্টেই বিধানসভায় বিল আনার ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি কার্যকরের পথে বড় পদক্ষেপ, রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি; অগস্টেই বিধানসভায় বিল আনার ঘোষণা

7 views
A+A-
Reset

পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি) কার্যকর করার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। সোমবার বিধানসভায় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইউসিসি প্রণয়নের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের ঘোষণা করেন। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিকে চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই আগামী অগস্ট মাসে বিধানসভায় ইউসিসি বিল পেশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, প্রস্তাবিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আওতার বাইরে রাখা হবে রাজ্যের আদিবাসী, মূলবাসী, কুড়মি এবং অন্যান্য স্বীকৃত প্রাচীন জনজাতি সম্প্রদায়কে। এ ক্ষেত্রে উত্তরাখণ্ড এবং গুজরাতের ইউসিসি মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিধানসভায় বিবৃতি দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগামী ২ জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইউসিসি বিলের খসড়া অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। বিল তৈরির ক্ষেত্রে গুজরাতের ইউনিফর্ম সিভিল কোড বিল-২০২৬, অসমের ইউসিসি আইন এবং উত্তরাখণ্ডের ইউনিফর্ম সিভিল কোড আইন-২০২৪-কে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ধর্মভিত্তিক পৃথক ব্যক্তিগত আইন ব্যবস্থার পরিবর্তে গোটা রাজ্যে একক দেওয়ানি আইন কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েই এই উদ্যোগ।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভারতীয় জনতা পার্টির নির্বাচনী সংকল্পপত্রে ইউসিসি কার্যকরের প্রতিশ্রুতি ছিল। আমরা সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে বদ্ধপরিকর। পশ্চিমবঙ্গেও ইউনিফর্ম সিভিল কোড কার্যকর হবে।”

সরকার ঘোষিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে থাকছেন অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জনা দেশাই। এ ছাড়াও কমিটিতে থাকবেন এক জন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক, এক জন আইন বিশেষজ্ঞ, এক জন শিক্ষাবিদ, এক জন সমাজকর্মী এবং রাজ্য সরকারের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের এক জন অতিরিক্ত সচিব। ওই অতিরিক্ত সচিবই কমিটির প্রশাসনিক কাজকর্ম এবং সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিটির কার্যপরিধি সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রচলিত বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইন নিয়ে বিস্তৃত সমীক্ষা চালানো হবে। বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ, লিভ-ইন সম্পর্ক-সহ একাধিক বিষয়ে বিদ্যমান আইন ও বিধানের পর্যালোচনা করবে কমিটি। পাশাপাশি সামাজিক ও আইনি প্রভাব, সাংবিধানিক বিষয় এবং প্রশাসনিক বাস্তবতা নিয়েও বিস্তারিত সুপারিশ জমা দেবে তারা।

এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতির সময় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কেরা ইউসিসি-র বিরোধিতা করে স্লোগান তোলেন। সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কারও কোনও আপত্তি বা মতামত থাকলে তা সরাসরি রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বাধীন কমিটির কাছে জমা দেওয়া যেতে পারে।” তিনি আশ্বাস দেন, সমস্ত পক্ষের মতামত বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি হবে।

বক্তব্যের শেষে শুভেন্দু অধিকারী ফের স্পষ্ট করে দেন যে, ইউসিসি কার্যকর করার বিষয়ে সরকার কোনওভাবেই পিছিয়ে আসবে না। তাঁর কথায়, “আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গে ইউনিফর্ম সিভিল কোড কার্যকর হবে, হবে এবং হবেই।”

রাজ্য সরকারের এই ঘোষণার পর ইউসিসি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নজর থাকবে রঞ্জনা দেশাই কমিটির সুপারিশ এবং আগামী অগস্ট মাসে বিধানসভায় পেশ হতে চলা ইউসিসি বিলের দিকে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.