প্রথম পাতা খবর এসআইআর ট্রাইবুনাল থেকে সরে দাঁড়ালেন প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জিতকুমার বাগ

এসআইআর ট্রাইবুনাল থেকে সরে দাঁড়ালেন প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জিতকুমার বাগ

15 views
A+A-
Reset

কলকাতা: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত মামলার শুনানির জন্য গঠিত ট্রাইবুনাল থেকে সরে দাঁড়ালেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জিতকুমার বাগ। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি ট্রাইবুনালের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে একই ট্রাইবুনাল থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম। ফলে এসআইআর সংক্রান্ত বিচারপ্রক্রিয়ার গতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা নামগুলির নিষ্পত্তির দায়িত্ব কলকাতা হাই কোর্টের তত্ত্বাবধানে গঠিত একটি বিশেষ ট্রাইবুনালের উপর ন্যস্ত করা হয়েছিল। শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে এই ট্রাইবুনাল গঠন করতে হবে এবং তারাই বিতর্কিত ভোটার তালিকার নামগুলি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

সেই নির্দেশ মেনেই কলকাতা হাই কোর্টের উদ্যোগে ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়। বিচারপতি রঞ্জিতকুমার বাগ এই ট্রাইবুনালের অন্যতম সদস্য ছিলেন এবং ইতিমধ্যেই তিনি একাধিক মামলার নিষ্পত্তিও করেছেন। তবে হঠাৎ তাঁর সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক এবং আইনি মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

সূত্রের খবর, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিবেচনাধীন প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম ট্রাইবুনালের শুনানির জন্য পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত মাত্র ২৮ থেকে ৩০ হাজার মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০টির বেশি মামলা নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না বলেই জানা গিয়েছে।

ট্রাইবুনালের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্রের দাবি, পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাবে কাজের গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের একাংশের মতে, ট্রাইবুনালের কাজ কার্যত একটি পূর্ণাঙ্গ আদালতের সমতুল্য। প্রতিটি মামলায় আবেদনকারীর নথিপত্র খুঁটিয়ে পরীক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই আবেদনকারীকে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে হচ্ছে।

কিন্তু আদালতের মতো পরিকাঠামো, প্রযুক্তিগত সহায়তা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা ট্রাইবুনালের হাতে নেই। ফলে মামলার নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের একাংশের আশঙ্কা, বর্তমান গতিতে কাজ চললে সমস্ত মামলার নিষ্পত্তি করতে ২৫ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে

ট্রাইবুনালের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের অভিযোগ, আবেদনকারীদের নোটিস পাঠানো থেকে শুরু করে শুনানির ব্যবস্থা করা— সব ক্ষেত্রেই নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কোনও নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল অবকাঠামো না থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জেলা প্রশাসনের সাহায্য নিতে হচ্ছে। ফলে মামলার নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠছে।

উল্লেখ্য, বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের পদত্যাগের পর বিহারের এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিও ট্রাইবুনাল থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। এবার বিচারপতি রঞ্জিতকুমার বাগের পদত্যাগে এসআইআর সংক্রান্ত বিচারপ্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ এবং গতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.