কলকাতা: রাজ্যে পুলিশের সাড়া দেওয়ার সময় কমাতে এবং নারী সুরক্ষা আরও জোরদার করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী দুর্গাপুজোর আগেই পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে চলেছে একক জরুরি হেল্পলাইন নম্বর ১১২। এই পরিষেবা চালু হলে পুলিশের প্রতিক্রিয়ার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি, মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহিলা হেল্প ডেস্ক, মহিলা থানা এবং বিশেষ ‘দুর্গা স্কোয়াড’ গঠনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যগুলিতে অভিযোগ পাওয়ার গড়ে ছয় মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে পুলিশের গড় প্রতিক্রিয়ার সময় প্রায় তিন ঘণ্টা। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনতেই ১১২ জরুরি পরিষেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ১১২ পরিষেবা কার্যকর করার জন্য রাজ্যের প্রতিটি থানায় একটি করে নির্দিষ্ট পুলিশ গাড়ি রাখা হবে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছবে, যাতে দ্রুত পদক্ষেপ করা সম্ভব হয়।
নারী সুরক্ষার বিষয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে আর কোনওভাবেই আরজি কর, কামদুনি বা পার্ক স্ট্রিটের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, “অভয়া আর না। এ ধরনের ঘটনা আর বরদাস্ত করা হবে না।”
রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই নারী সুরক্ষা কমিশন গঠন করেছে। এই কমিশনের চেয়ারম্যান হয়েছেন কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় এবং সদস্য-সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অতীতে নারী নির্যাতনের ঘটনায় বিচার না পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টরা কমিশনের দ্বারস্থ হতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, “যাঁরা বিচার পাননি, তাঁরা আবেদন করুন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে তাঁদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে।”
রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল থেকেই প্রতিটি থানায় মহিলা হেল্প ডেস্ক চালু হবে। এছাড়াও, প্রতিটি মহকুমায় একটি করে মহিলা থানা গঠন করা হবে। মহিলা পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে বিশেষ ‘দুর্গা স্কোয়াড’ তৈরি করা হবে, যারা নারী সুরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নারী ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে বিজেপি সরকার। মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত, অন্নপূর্ণা যোজনা এবং উচ্চশিক্ষায় আর্থিক সহায়তার মতো একাধিক প্রকল্প ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল নারী সুরক্ষা ও জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ।