পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত সপ্তম বেতন কমিশন কমিটির প্রথম বৈঠক হল সোমবার নবান্নে। বৈঠকে কমিশনের কাজের রূপরেখা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি দ্রুত কমিশনের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে কমিশনের কাজ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য প্রকাশ করা হবে।
Government of West Bengal-এর গঠিত সপ্তম পে কমিশনের কাজ নিয়ে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবান্ন। সেই বিজ্ঞপ্তিতে বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন বেতন কাঠামো তৈরির বিষয়ে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি ৩ থেকে ৫ শতাংশ?
সপ্তম বেতন কমিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি। বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৩ শতাংশ। নতুন বেতন কাঠামোয় তা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখে নতুন বেতন কাঠামো তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামোর সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন স্তরের সামঞ্জস্য আনার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।
ন্যূনতম বেতন নির্ধারণে পরিবার ও পুষ্টির হিসাব
ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারকে ভিত্তি হিসাবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। পুষ্টির মানদণ্ডের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। দৈনিক ২,৭০০ ক্যালোরির পরিবর্তে ৩,৪৯০ ক্যালোরিকে নতুন মানদণ্ড হিসাবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।
মহার্ঘ ভাতা ও অন্যান্য ভাতাও আলোচনায়
মহার্ঘ ভাতার ক্ষেত্রে ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডার’-এর সুপারিশ করার বিষয়টিও কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া ভাতা, পরিবহণ ভাতা, শিশুদের শিক্ষাভাতা, হস্টেল ভরতুকি-সহ বিভিন্ন ভাতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
অবসরকালীন সুবিধা নিয়েও একাধিক বিষয় পর্যালোচনা করবে কমিশন। এর মধ্যে কমিউটেড পেনশন ১১ বছর পর পুনরুদ্ধার, অবসরের সময় ছুটির নগদীকরণ এবং ৩০ জুন অবসর নেওয়া কর্মীদের একটি ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।
শীঘ্রই চালু হবে ওয়েবসাইট
সোমবারের প্রথম বৈঠকে কমিশনের কাজ কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, তার প্রাথমিক রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সূত্রের খবর, দ্রুতই একটি ওয়েবসাইট চালু করা হবে। সেখানে কমিশনের বৈঠক, কাজের অগ্রগতি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করা হবে।
তবে বেতন বৃদ্ধি বা নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিশনের পরবর্তী বৈঠক এবং সুপারিশের পরই বিষয়গুলি স্পষ্ট হবে।