প্রথম পাতা খবর জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দিল্লির কর্মসূচিতে উত্তেজনা, যন্তর মন্তরে আটক ১০০ আপ সমর্থক

জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দিল্লির কর্মসূচিতে উত্তেজনা, যন্তর মন্তরে আটক ১০০ আপ সমর্থক

4 views
A+A-
Reset

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার দিল্লি ও মুম্বইয়ে পৃথক কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) কর্মসূচি নিয়েছে। অন্যদিকে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিভিন্ন ছাত্র, যুব ও নাগরিক সংগঠনের বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে কোনও বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

যন্তর মন্তরে ১৬৩ ধারা, পাঁচ বা তার বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা

বিক্ষোভের আগে নয়াদিল্লি জেলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা বা বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এর আওতায় লিখিত অনুমতি ছাড়া পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, ধরনা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্লোগান বা বক্তৃতার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে।

শুক্রবার সকালে যন্তর মন্তরের কাছে আম আদমি পার্টির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ-সহ একাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া কোনও ধরনের বিক্ষোভ বা অবস্থান কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না।

যন্তর মন্তর ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে। দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি একাধিক জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।

বন্ধ ১১টি মেট্রো স্টেশন

বিক্ষোভের পাশাপাশি নিরাপত্তার কারণে দিল্লি মেট্রোর ১১টি স্টেশনের প্রবেশ ও বেরোনোর পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে জনপথ, পটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক, সেবা তীর্থ, মণ্ডি হাউস, লোক কল্যাণ মার্গ, আইএনএ, চাওরি বাজার, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ এবং নয়াদিল্লি। কয়েকটি স্টেশনে অবশ্য আন্তঃসংযোগের সুবিধা চালু রাখা হয়েছে।

দিল্লি ট্রাফিক পুলিশও কনট প্লেস, পটেল চক, পার্লামেন্ট স্ট্রিট, টলস্টয় মার্গ এবং যন্তর মন্তর সংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। ওই এলাকাগুলিতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ঘুরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মুম্বইয়েও CJP-র কর্মসূচি

মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে CJP-র কর্মসূচি ঘিরেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে তাঁরা দেশজুড়ে আন্দোলন চালানোর পরিকল্পনা করেছেন। শুক্রবারের কর্মসূচিকে সেই ধারাবাহিকতার সূচনা হিসেবে দেখছে দলটি।

CJP-র দাবি, ভোটার তালিকার সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার জবাবদিহি প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশন অবশ্য ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে আইন ও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত বলে জানিয়েছে।

২ থেকে ৮ অক্টোবর ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচি

এদিকে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ও ২ থেকে ৮ অক্টোবর দেশজুড়ে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে। বিভিন্ন জেলায় পদযাত্রা এবং জেলাশাসকের দফতরের সামনে কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। ৬ অক্টোবর বিরোধী সাংসদরা নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরের দিকে মিছিল করবেন বলেও ঘোষণা করা হয়েছে।

এই কর্মসূচিগুলি মূলত SIR বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের আপত্তির প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে। বিরোধী দল ও সংগঠনগুলির অভিযোগগুলি রাজনৈতিক দাবি হিসেবে রয়েছে; নির্বাচন কমিশন তাদের প্রক্রিয়া আইন মেনেই পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.