প্রথম পাতা খবর ‘এ ভাবে চললে পরের ভোটও এসে যাবে’, এসআইআর ট্রাইবুনালের কাজের গতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের উদ্বেগ

‘এ ভাবে চললে পরের ভোটও এসে যাবে’, এসআইআর ট্রাইবুনালের কাজের গতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের উদ্বেগ

10 views
A+A-
Reset

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ভোটারদের আবেদন নিষ্পত্তির গতি নিয়ে এবার সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মন্তব্য, এ ভাবে কাজ চলতে থাকলে পরবর্তী নির্বাচন চলে আসবে, তবু আবেদনগুলির নিষ্পত্তি হবে না। একই সঙ্গে ট্রাইবুনালে কতগুলি আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে, তার নির্দিষ্ট তথ্যও নির্বাচন কমিশনের কাছে চেয়েছে শীর্ষ আদালত।

এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ভোটারদের আপিল শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচন হয়ে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পরও সেই ট্রাইবুনালগুলিতে আবেদনের নিষ্পত্তির গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ও মালদহে আবেদনের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সেখানে অতিরিক্ত ট্রাইবুনাল গঠনের দাবি জানিয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অধীর চৌধুরী।

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। অধীরের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম আদালতে ট্রাইবুনালের কাজ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনকে নোটিস দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, শুধু ট্রাইবুনালে আবেদন করা হয়েছে কি না, তা দেখলেই হবে না। কতগুলি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে, সেই তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর পরামর্শ, আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হলে এবং নিষ্পত্তির গতি কম থাকলে অতিরিক্ত ট্রাইবুনাল গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তও মামলার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মন্তব্য, নিষ্পত্তির কাজ দ্রুত না হলে পরবর্তী নির্বাচন এসে যাবে। নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে তিনি বলেন, কাজ হচ্ছে কি না, তা শুধু কমিশন জানালেই হবে না, আদালতকেও পরিস্থিতি দেখতে হবে। কারণ, ট্রাইবুনাল গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টই।

পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলায় দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার অভাবের কারণে ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত করা বা বাদ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে ট্রাইবুনাল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রথমে মোট ২০টি ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়। পরে দু’জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। বর্তমানে রাজ্যের ২৪টি জেলায় ১৮টি ট্রাইবুনালে আবেদনগুলির শুনানি ও নিষ্পত্তি চলছে।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া প্রায় ৯১ লক্ষ মানুষের মধ্যে আনুমানিক ২৭ লক্ষ মানুষ ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন বলে আদালতে তথ্য দেওয়া হয়। প্রথম দিকে আবেদন নিষ্পত্তির সংখ্যা প্রকাশ করা হলেও বর্তমানে সেই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলেই শুনানিতে উঠে আসে।

এদিন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নায়ডু জানান, ট্রাইবুনালের কাঠামো পরিবর্তন নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কোনও নির্দেশ দিলে কমিশন সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করবে। বিচারপতি বাগচী অনলাইনে নিয়মিত তথ্য আপডেট করা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে আবেদনের নিষ্পত্তির গতি বাড়ানো যায় কি না, তা বিবেচনা করার পরামর্শ দেন।

এদিকে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়া ব্যক্তিরা রেশন থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বলে আদালতে জানানো হয়। তবে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, রেশন সংক্রান্ত বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। প্রয়োজনে এই বিষয়ে হাই কোর্টে আবেদন করা যেতে পারে।

এখন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতে ট্রাইবুনালগুলিতে কতগুলি আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য নির্বাচন কমিশনকে আদালতে জানাতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৫ আগস্ট। ওই দিন এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.