নিট-সহ বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে আন্দোলনের আবহে পরীক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বড় বার্তা দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার পাশাপাশি একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর জোর দেন।
দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ছাত্রছাত্রীরাই ভারতের ভবিষ্যৎ তৈরির কারিগর। জাতীয় নিরাপত্তার মতোই শিক্ষার্থীদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রেও সকলের ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে নিট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে পড়ুয়া ও যুবসমাজের আন্দোলন সামনে এসেছে। ঝাড়খণ্ডেও পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলন চলছে। এই পরিস্থিতিতে সর্বভারতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি জানান, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে সরকার ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করছে। শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ দূর করারও চেষ্টা চলছে। তাঁর বক্তব্য, সর্বভারতীয় নিয়োগ এবং প্রবেশিকা পরীক্ষায় অসদুপায় সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য করাই এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য।
প্রশ্নফাঁস রুখতে সংশোধনী বিল
প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়ম রুখতে বাদল অধিবেশনে সংশোধনী বিল পেশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। Public Examinations (Prevention of Unfair Means) (Amendment) Bill, 2026 ইতিমধ্যেই লোকসভায় ধ্বনিভোটে পাস হয়েছে। রাজ্যসভায় পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন মিললে তা আইনে পরিণত হবে।
নিটের প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও পরীক্ষায় অনিয়ম রুখতে কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যেই ২০২৪ সালের সংশ্লিষ্ট আইনে একাধিক সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছে।
নতুন সংশোধনী বিলে প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড
নতুন বিলে পরীক্ষায় অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত থাকার অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে প্রশ্নফাঁস, জালিয়াতি বা পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের মতো ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পথ তৈরি হবে।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে স্পষ্ট, শুধু আইন কঠোর করাই নয়, পরীক্ষাব্যবস্থার প্রতি পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাও সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে পরীক্ষা ব্যবস্থাকে নির্ভরযোগ্য করে তোলার উপরই জোর দেওয়া হচ্ছে।