প্রথম পাতা খবর গুরুতর রোগী এলেই রেফার নয়, আগে স্থিতিশীল করতে হবে: ক্রিটিক্যাল কেয়ার নিয়ে কড়া নির্দেশ স্বাস্থ্যদপ্তরের

গুরুতর রোগী এলেই রেফার নয়, আগে স্থিতিশীল করতে হবে: ক্রিটিক্যাল কেয়ার নিয়ে কড়া নির্দেশ স্বাস্থ্যদপ্তরের

12 views
A+A-
Reset

গুরুতর অসুস্থ রোগী হাসপাতালে এলেই অন্যত্র রেফার করে দেওয়ার প্রবণতা বদলাতে হবে। ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটগুলির পরিকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখে এবার জরুরি নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, গুরুতর অসুস্থ রোগী হাসপাতালে এলে প্রথমে তাঁকে স্থিতিশীল করতে হবে। এরপর প্রয়োজন হলে অন্য হাসপাতালে রেফার করা যাবে।

রেফারের আগে জানাতে হবে ডেপুটি সুপারকে

স্বাস্থ্যদপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, ইচ্ছেমতো কোনও গুরুতর রোগীকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো যাবে না। রোগীকে রেফার করার আগে বিষয়টি জানাতে হবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ডেপুটি সুপার অথবা সহকারী সুপারকে। এরপর ডেপুটি সুপার যোগাযোগ করবেন স্বাস্থ্যভবনের ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে।

যে হাসপাতালে রোগীকে পাঠানো হচ্ছে, সেখানে আদৌ ক্রিটিক্যাল কেয়ার বেড রয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। তবে রোগীর পরিবার নিজেরাই অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে এই নিয়মের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকবে।

অব্যবহৃত ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট দ্রুত চালুর নির্দেশ

কোন হাসপাতালে কতগুলি ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট রয়েছে এবং সেগুলি কতটা কার্যকর—তার তথ্য ক্রিটিক্যাল কেয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বা CCMIS পোর্টালে আপলোড করতে হয়। সম্প্রতি এই পোর্টালের তথ্য খতিয়ে দেখেছে স্বাস্থ্যদপ্তর।

গত ১৩ আগস্ট রাজ্যের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট নিয়ে রাজ্যস্তরে বৈঠক হয়। সেখানে দেখা যায়, একাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের পরিকাঠামো তৈরি হলেও সেগুলি এখনও ব্যবহার করা হয়নি।

এই তালিকায় রয়েছে বীরপাড়া স্টেট জেনারেল, ফ্রেজারগঞ্জ হেলথ সেন্টার, চন্দননগর মহকুমা হাসপাতাল, সাগরদিঘি সুপার স্পেশালিটি, কল্যাণী গান্ধী মেমোরিয়াল, বেলদা-ডেবরা ও শালবনি সুপার স্পেশালিটি, আমতলা টিসিইউ এবং মেটিয়াবুরুজ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল।

সংশ্লিষ্ট জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দ্রুত এই ইউনিটগুলি চালু করতে হবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেগুলি কার্যকর করে CCMIS পোর্টালে তথ্য আপডেট করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

হাইব্রিড CCU হস্তান্তরেও সময়সীমা

বেশ কিছু হাসপাতালে হাইব্রিড ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের পরিকাঠামো তৈরি হলেও তা এখনও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করা হয়নি। এই তালিকায় রয়েছে ফালাকাটা, ওন্দা, পুরুলিয়া ও গোপালপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, রায়গঞ্জ মেডিক্যাল, কালনা মহকুমা হাসপাতাল এবং আসানসোল জেলা হাসপাতাল।

৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই ইউনিটগুলিও প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর।

ICU-তে থাকতে হবে যোগ্যতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ

প্রতিটি ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের জন্য নির্দিষ্ট গাইডলাইনও বেঁধে দিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য প্রতি সপ্তাহে রিভিউ মিটিং করতে হবে।

প্রতিটি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট বা ICU-তে অন্তত একজন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রিধারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অ্যানাস্থেশিওলজির ক্ষেত্রে এমডি অথবা DNB ডিগ্রিধারী চিকিৎসক প্রয়োজন। একইভাবে মেডিসিন, পালমোনারি মেডিসিন এবং এমার্জেন্সি মেডিসিনের চিকিৎসকদেরও MD অথবা DNB ডিগ্রিধারী হতে হবে। নির্দেশিকায় এই চিকিৎসকদের ICU স্পেশালিস্ট হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়েছে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণেও জোর

ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমাতেও নির্দিষ্ট গাইডলাইন দিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। প্রতিটি হাসপাতালের ইনফেকশন কন্ট্রোল নার্সকে নিয়মিত CCU-গুলির ইনফেকশন কন্ট্রোল স্টেটাস পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

অর্থাৎ, শুধু ক্রিটিক্যাল কেয়ার পরিকাঠামো তৈরি করাই নয়, তা কার্যকর রাখা, প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিশ্চিত করা, রোগী রেফারের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ—সব দিকেই এবার নজরদারি বাড়াতে চাইছে স্বাস্থ্যদপ্তর।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.