এ বছরের দুর্গাপুজোয় রাজ্যের ছোট ও আর্থিক ভাবে প্রয়োজনীয় পুজো কমিটিগুলিকে ১ লক্ষ টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মিলনমেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকের পর এই ঘোষণা করেন তিনি। তবে বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি আর্থিক সাহায্য না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পুজো কমিটিগুলির জন্য আরও একাধিক সুবিধার ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে পুজোর সময় বিদ্যুতের জন্য কোনও টাকা দিতে হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। দমকলের ছাড়পত্র নেওয়ার ক্ষেত্রেও পুজো কমিটিগুলিকে কোনও ফি দিতে হবে না বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
ছোট পুজো কমিটিকে ১ লক্ষ টাকা
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এ বারই প্রথম দুর্গাপুজো। ফলে আগের সরকারের চালু করা পুজোর অনুদান ব্যবস্থা বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা ছিল। সোমবার পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকের পর সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এ বারও প্রয়োজনীয় পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি সাহায্য দেওয়া হবে।
শুভেন্দুর বক্তব্য, যেসব বড় বাজেটের পুজো কমিটির সরকারি সাহায্যের প্রয়োজন নেই, তাদের অনুদান না নেওয়াই উচিত। আর যেসব কমিটি এই সাহায্য ছাড়া পুজো আয়োজন করতে সমস্যায় পড়বে, তাদের ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে।
বিদ্যুৎ ও দমকলেও ছাড়
পুজো কমিটিগুলির জন্য আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি প্রশাসনিক খরচেও ছাড়ের ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে পুজো কমিটিগুলিকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার বিষয়ে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা এবং সিইএসসির সঙ্গে কথা হয়েছে।
এ ছাড়াও দমকলের ছাড়পত্র নেওয়ার জন্য কোনও টাকা দিতে হবে না পুজো কমিটিগুলিকে।
ডিজে বাজানো যাবে না, হবে না কার্নিভালও
এ বার দুর্গাপুজোর সময় একাধিক বিধিনিষেধও জারি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজোর দিনগুলিতে ডিজে বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি এ বছর কার্নিভালও হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
জাতীয় সড়ক আটকে কোনও অনুষ্ঠান বা শোভাযাত্রা করা যাবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উৎসব পরিচালনায় সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
অষ্টমীতে বন্ধ মদের দোকান ও পানশালা
দুর্গাপুজোর অষ্টমীর দিন রাজ্যের সমস্ত মদের দোকান বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে পানশালাও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ মহাষ্টমীর দিন রাজ্যে মদ বিক্রির ক্ষেত্রে কার্যত ‘ড্রাই ডে’ থাকবে।
আগের সরকারের অনুদান নিয়েও কটাক্ষ
এ দিন পূর্বতন সরকারের পুজোর অনুদান নীতি নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে দুর্গাপুজোর অনুদান শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা বেড়ে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা হয়েছিল। তাঁর দাবি, এই ব্যবস্থায় অনেক পুজো কমিটি সরকারি অনুদানের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল।
নতুন সরকারের নীতি অবশ্য আলাদা। প্রয়োজন রয়েছে এমন পুজো কমিটিগুলিকেই সরকারি সাহায্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে সরকার জানিয়েছিল, সব পুজো কমিটিকে ঢালাও অনুদানের পরিবর্তে প্রয়োজনের ভিত্তিতে কমিটি বেছে নেওয়া হবে।
ফলে এ বার দুর্গাপুজোয় একদিকে ছোট ও আর্থিক ভাবে দুর্বল পুজো কমিটিগুলির জন্য ১ লক্ষ টাকার সরকারি সাহায্য, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ও দমকলের ছাড়পত্রের সুবিধা থাকছে। অন্যদিকে ডিজে, কার্নিভাল এবং অষ্টমীর দিনের মদ বিক্রির উপর থাকছে কড়া নিষেধাজ্ঞা।