কলকাতা: কলকাতা ও হাওড়ায় পুরভোটের প্রস্তুতির মধ্যেই ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার আলিপুরে সর্বদল বৈঠকে বসেছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, বৈঠকে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি ভোটার তালিকা নিয়েও নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছে বিরোধী দলগুলি। এসআইআর বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের আগে যে তালিকা ছিল, তা দিয়েই আসন্ন পুরভোট করানোর দাবি জানিয়েছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল, সিপিএম ও কংগ্রেস। তবে বৈঠকে উপস্থিত ছিল না ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-পন্থী তৃণমূল।
এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি
বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। ফলে সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা ব্যবহার করে নির্বাচন করানো হলে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে। যাঁদের নাম নিয়ে আপত্তি রয়েছে, তাঁদের বিষয়টি নিষ্পত্তি না করে কীভাবে পুরভোট করানো হবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।
তবে নির্বাচন কমিশনের সূত্রের বক্তব্য, ভোটার তালিকা তৈরি করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বশেষ প্রযোজ্য ভোটার তালিকাই ব্যবহার করতে হবে। ফলে কোন তালিকা ধরে কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোট হবে, তা নির্ভর করবে নির্বাচন সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং প্রযোজ্য ভোটার তালিকার উপর।
ভোটার তালিকা তৈরিতে সময় লাগার আশঙ্কা
প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশের নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। আগে ৩ নভেম্বরের মধ্যে খসড়া তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনার কথা বলা হলেও ওয়ার্ড ও বুথের পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে ভোটারদের তথ্য মেলানোর কাজ জটিল হয়ে উঠেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।
কলকাতা পুরসভার প্রায় ৪৫০০টি বুথের মধ্যে প্রায় ১০০টি বুথ ভাঙতে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। নতুন ওয়ার্ডের সীমানা অনুযায়ী ভোটারদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে তালিকা প্রস্তুত করতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি কর্মীর অভাবও সমস্যা বাড়িয়েছে। বুথ লেভেল অফিসারদের উপর জনগণনার কাজের চাপ থাকায় পুরভোটের জন্য তাঁদের দায়িত্ব বণ্টনেও জটিলতা রয়েছে।
ডিসেম্বরের আগে ভোট নিয়ে সংশয়
এর আগে পরিকল্পনা ছিল, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট করিয়ে ডিসেম্বরের গোড়ায় গণনা ও নতুন পুরবোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। কিন্তু ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এবং ভোটার তালিকা তৈরির কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা নিয়ে সংশয় দেখা দেওয়ায় সেই পরিকল্পনা ধাক্কা খেয়েছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, ডিসেম্বরের আগে ভোট করানো কঠিন হতে পারে।
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর কলকাতা পুরসভার একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রশাসকের কার্যকালের মেয়াদ শেষ করে নির্বাচিত পুরবোর্ডের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
নতুন করে ভোটার-তথ্য চেয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্য নির্বাচন কমিশন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে ১ অক্টোবর পর্যন্ত ভোটার-তথ্যের তথ্যভান্ডার চেয়েছে। ওই তথ্য পাওয়ার পর ওয়ার্ড ও বুথের সীমানার সঙ্গে তা মিলিয়ে তালিকা প্রস্তুত করতে আরও সময় লাগতে পারে।
ফলে কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটের দিনক্ষণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি কত দ্রুত সম্পন্ন হয়, তার উপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।