প্রথম পাতা খবর বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ‘অর্ণব’

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ‘অর্ণব’

8 views
A+A-
Reset

কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই নিম্নচাপ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে সোমবার সকালের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে তার নাম হবে ‘অর্ণব’। এরপর সমুদ্রের উপর আরও শক্তি সঞ্চয় করে তা তীব্র থেকে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে ঝড়টি আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাস।

সোমবার ঘূর্ণিঝড় তৈরির সম্ভাবনা

আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পূর্ব-মধ্য ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি ঘণ্টায় প্রায় ৮ কিলোমিটার গতিতে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এগিয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার অবস্থান অনুযায়ী, নিম্নচাপটি আন্দামানের শ্রীবিজয়পুরম থেকে প্রায় ৪৭০ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর পশ্চিমে ছিল।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে বাঁক নিয়ে এগিয়ে সোমবার সকালের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ার আশঙ্কা

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি মঙ্গলবার সকালের মধ্যে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে আরও শক্তি সঞ্চয় করে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বুধবার দুপুর নাগাদ অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের বাপাতলা এবং বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকায় ঘূর্ণিঝড়টি আছড়ে পড়তে পারে। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস।

উত্তাল থাকবে বঙ্গোপসাগর, মৎস্যজীবীদের সতর্কতা

নিম্নচাপ ও সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পূর্ব-মধ্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে ঝোড়ো হাওয়ার দাপট বাড়বে। সোমবার সমুদ্রের উপর ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে। মঙ্গলবার তা বেড়ে ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে। বুধবার ঝড়ের প্রভাবে হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার বেগ ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গের উপকূলেও মঙ্গলবার থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৫৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। মৎস্যজীবীদের মঙ্গলবারের পর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যে সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের মঙ্গলবারের মধ্যে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে। বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া ও বাঁকুড়াতেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

কলকাতা, হাওড়া ও হুগলিতে বুধবার ও বৃহস্পতিবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তরবঙ্গেও বাড়বে বৃষ্টি

উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে বৃহস্পতিবার থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিন দুই বঙ্গের তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। এরপর তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত কমতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের উপর নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত কোথায় এবং কতটা প্রভাব পড়বে। তাই উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও মৎস্যজীবীদের আবহাওয়া দফতরের পরবর্তী সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.