মুর্শিদাবাদ: উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্তের মৃত্যুর খবরের পর মঙ্গলবার বিকেলে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানেও সিআইডির গুলিতে মৃত্যু হল এক খুনের মামলায় অভিযুক্তের। মৃতের নাম শামাউল হক। তাঁর বাড়ি ফরাক্কার ঘোড়াইপাড়ায়। তদন্তকারীদের দাবি, তদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি সিআইডি আধিকারিকদের বাধা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। সেই সময় আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয় বলে সূত্রের খবর।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শামাউল হক মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে বিজেপি নেতা সুজিত মণ্ডল খুনের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। মঙ্গলবার তাঁকে ধুলিয়ান বাজারের কাছে ডাকবাংলো মোড় এলাকায় তদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই এই ঘটনা ঘটে।
কী ঘটেছিল ধুলিয়ানে?
সিআইডি সূত্রে দাবি, তদন্তের সময় শামাউল আধিকারিকদের বাধা দেন এবং তাঁদের সার্ভিস রিভলবার ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। সেই পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার্থে তদন্তকারীরা গুলি চালান বলে জানা গিয়েছে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় অনুপনগর ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং গুলি চালানোর পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সুজিত মণ্ডল খুনের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন শামাউল
গত সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে সামশেরগঞ্জে বিজেপি নেতা সুজিত মণ্ডলকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ ওঠে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাঁর দেহ উদ্ধার করা যায়নি; গঙ্গার ধারে দেহের একটি অংশ পাওয়া গিয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ শামাউল হক-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তদন্তভার সিআইডির হাতে যায়। সেই মামলাতেই শামাউল ও অন্য অভিযুক্তরা জেলবন্দি ছিলেন বলে প্রাপ্ত তথ্যে দাবি করা হয়েছে।
একই দিনে দ্বিতীয় এনকাউন্টারের খবর
মঙ্গলবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্তের মৃত্যুর খবর সামনে আসে। তার পর বিকেলে ধুলিয়ানে শামাউল হকের মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় রাজ্যে একই দিনে দুটি এনকাউন্টারের খবর ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্তদের মৃত্যুর ঘটনায় একাধিক এনকাউন্টারের দাবি উঠেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই পুলিশ বা তদন্তকারীদের উপর হামলা কিংবা পালানোর চেষ্টার কথা বলা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। তবে এ ধরনের ঘটনায় পুলিশের বক্তব্যের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, ঘটনার নিরপেক্ষ যাচাই এবং আইনি প্রক্রিয়ার তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।
ধুলিয়ানের ঘটনায় ঠিক কী পরিস্থিতিতে গুলি চালানো হয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও সংশ্লিষ্ট তদন্তের পরবর্তী তথ্যের দিকে নজর থাকবে।