কম করে ৩৪ প্রকল্প আটকে, কিন্তু কেন? ক্ষুব্ধ মমতা

বিভিন্ন দফতর ফেরত সরকারি কাজ শুরু হয়েও পড়ে আছে দীর্ঘদিন। একে বারে তার তালিকা তৈরি করে নিয়ে এসে প্রশাসনিক বৈঠকে ধমক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বললেন, ‘আপনারা ওয়ার্ক অন প্রগ্রেস বললেই আমি মেনে নেব, সার্ভে করব না, এমনটা নয়। আমি কিন্তু সব নজরে রাখব। এগুলোর আগে কাজ শেষ করুন।’

বাঁকুড়ায় একাধিক প্রকল্প খাতায়-কলমে উদ্বোধন হলেও, এখনও পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে মন্তব্য করতে শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীকে। কেন সাত-আট বছর আগে উদ্বোধন হওয়া প্রকল্প এখনও সূর্যের আলোর দেখিনি, তা নিয়ে জেলার প্রশাসনিক কর্তা (জেলা শাসক-সহ পদাধিকারীদের)দের কাছে জানতে চাইলেন মমতা। মঙ্গলবার মমতা বলেন, রায়পুরের জল সরবরাহ প্রকল্পের কাজ আট বছর আগে শুরু হয়েছে। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত তা চালু করা সম্ভব হয়নি। এর পরই মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, কার গাফিলতির জন্য এত দিন আগে উদ্বোধন হওয়া প্রকল্প চালু করা যায়নি? এখানেই শেষ নয়। মুকুটমণিপুরের সংস্কৃতি ভবন, ইন্ডাস-ওন্দা এবং বিষ্ণুপুরের তিনটি আইআইটি কলেজ তৈরির কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, ছয় বছর কেটে গিয়েছে এখনও একটি কলেজও চালু হয়নি। কলেজ চালু না হওয়ার কারণ জানতে চান মমতা।

এ-দিন মমতা বলেন, কম করে ৩৪টি প্রকল্পের কাজ ৬-৮ বছর ধরে আটকে রয়েছে। পাশাপাশি, তিনি বলেন দয়া করে জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতির হাতে কাজ দেবেন না। আপনারা দফতর থেকে কাজ করুন, ওরা টেন্ডার করতে দেরি করে। ওরা নিজেদের লোকদের ছাড়া টেন্ডার দেয় না। ওদের হাতে কাজ দেবেন না। ওদের ইঞ্জিনিয়ার কম, ওদের লোক সংখ্যা কম, ওদের হাতে কাজ দেবেন না।

সব মিলিয়ে সরকারি প্রকল্পের কাজ নিয়ে কার্যত প্রশ্ন তুলে দেন মমতা। সর্ব স্তরে কাজ সঙ্গে সঙ্গে শেষ করা নির্দেশ দেন তিনি। ওয়াটার সাপ্লাই স্কিম, রায়পুর ব্লকের কথা বলেই এই প্রকল্পের বিষয়টি শুরু করেন মমতা। ২১ কোটি টাকার প্রজেক্ট, আট বছর ধরে পড়ে আছে। উত্তরে জেলাশাসক বলেন, ৮৫ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ হয়ে আছে। সেই কথার উত্তরে পাল্টা মমতা বলেন, না না, ৮৫ শতাংশ ওসব শুনবো না। এ তো কানমলা খাওয়া উচিত সবার কাছে, যে দফতর এগুলো করছে। দায়িত্ব নিযে এগুলো করছে। এগুলো দফতরগুলিকে বলা যায় না যে এগুলো এতদিন ধরে পড়ে আছে।

পাশাপাশি, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যদের মমতা বলেন, এখনও যা কাজ করার করে নিন, তাড়াতাড়ি টেন্ডার ছেড়ে কাজটা শেষ করুন। এর পর বর্ষাকালে কাজ করতে পারবেন না, তার পর পঞ্চায়েত নির্বাচন চলে আসবে, তখন হাত কামড়ালেও কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না।

Related posts

বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাংলার সাত লোকসভা কেন্দ্রে ভোট পড়ল ৭৩ শতাংশ

হুগলির ধনিয়াখালিতে বিক্ষোভের মুখে লকেট, অশান্ত পরিস্থিতি

ভোট চলাকালীন ঝেঁপে বৃষ্টি, ছাতা মাথায় ভিড় ভোটারদের