বাংলাদেশি সন্দেহে এবার ঝাড়খণ্ডে বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিককে খুনের অভিযোগ উঠল। মৃতদেহ উদ্ধারের খবর বেলডাঙায় পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবার ও প্রতিবেশীরা। শুক্রবার সকাল থেকে বেলডাঙা এলাকায় রেললাইন ও ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। জ্বালানো হয় টায়ার। অবরোধের জেরে ব্যাহত হয় রেল চলাচল, জাতীয় সড়কে দাঁড়িয়ে পড়ে একের পর এক যানবাহন। এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
অশান্তির খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যান কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। বিক্ষোভকারীরা বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
মৃত যুবকের নাম আলাউদ্দিন শেখ (৩৬)। তিনি বেলডাঙা থানার কুমারপুর পঞ্চায়েতের সুজাপুর তালপাড়ার বাসিন্দা। প্রায় পাঁচ বছর আগে কাজের সন্ধানে ঝাড়খণ্ড যান তিনি। সেখানে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন আলাউদ্দিন। পরিবারের দাবি, গ্রামে গ্রামে ফেরি করতে গিয়ে তাঁকে বারবার হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছিল। বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছিল তাঁকে।
মৃতের জামাইবাবু ওসমান শেখ জানান, গত পরশু আলাউদ্দিন ফোন করে আতঙ্কের কথা জানিয়েছিলেন। আধার কার্ড দেখালেও পরিস্থিতি বদলায়নি বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার বিকেলেও পরিবারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। তারপর থেকেই মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়। শুক্রবার সকালে বাড়িতে খবর আসে, আলাউদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে। ঘর থেকে উদ্ধার হয় গলায় ফাঁস দেওয়া দেহ।
পরিবারের অভিযোগ, আত্মহত্যা নয়—আলাউদ্দিনকে খুন করা হয়েছে। যে ছবিগুলি পরিবারের হাতে এসেছে, তাতে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। সেই কারণেই তাঁদের দাবি, খুনের পর প্রমাণ লোপাটের জন্য গলায় ফাঁস দেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে বেলডাঙা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।