প্রথম পাতা খবর বীরভূমের সব থানায় কালীপুজোর প্রস্তাব জগন্নাথের

বীরভূমের সব থানায় কালীপুজোর প্রস্তাব জগন্নাথের

5 views
A+A-
Reset

বীরভূমের সব থানায় কালীপুজো করার প্রস্তাব দিলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বীরভূম জেলা পুলিশের বিজয়া সম্মেলনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি জেলার শক্তিপীঠ ও সিদ্ধপীঠ সংলগ্ন থানাগুলিতে কালীপুজো এবং কালীমূর্তি রাখার পক্ষে সওয়াল করেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। রঘু ডাকাতের কালীপুজোর প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রীকে কটাক্ষ করেছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের বক্তব্য, কোনও পুলিশকর্মী ব্যক্তিগত উদ্যোগে কালীপুজো করলে সেটা তাঁর বিষয়, কিন্তু সরকারের তরফে তা করানো ঠিক নয়।

কী বলেছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়?

বৃহস্পতিবার বীরভূম জেলা পুলিশের বিজয়া সম্মেলনী অনুষ্ঠানে গিয়ে জেলার সব থানায় কালীপুজোর কথা বলেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, বীরভূমের শক্তিপীঠ ও সিদ্ধপীঠ সংলগ্ন থানাগুলিতে ভাল ভাবে কালীপুজোর আয়োজন করা উচিত। থানায় কালীমূর্তি রাখার পক্ষেও মত দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, “এসপি সাহেবকে অনুরোধ করব, অন্তত বীরভূমের শক্তিপীঠ, সিদ্ধপীঠের থানাগুলিতে কালীপুজো ভাল ভাবে হোক। থানাগুলিতে কালীমূর্তি থাকা দরকার, ভাল হবে।”

বীরভূমে তারাপীঠ, কঙ্কালীতলা ও ফুল্লরার মন্দিরের মতো ধর্মীয় স্থান রয়েছে। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করেই থানাগুলিতে কালীপুজোর আয়োজনের কথা বলেন জগন্নাথ।

রঘু ডাকাতের প্রসঙ্গ, বিতর্কে মন্ত্রী

থানায় কালীমূর্তি রাখার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে রঘু ডাকাতের প্রসঙ্গও তোলেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে রঘু ডাকাতও মা কালীর পুজো করতেন। সেই উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পুলিশ অভিযানে যাওয়ার আগে মা কালীর কাছে প্রার্থনা করতে পারে, যাতে অভিযানে সাফল্য আসে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।

হাসপাতালে ঈশ্বরের মূর্তি থাকার উদাহরণও দেন জগন্নাথ। তাঁর মতে, চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের আগে ঈশ্বরকে প্রণাম করেন, রোগীর পরিজনেরাও প্রার্থনা করেন। একই ভাবে থানাতেও কালীমূর্তি থাকতে পারে।

সুজন চক্রবর্তীর কটাক্ষ

মন্ত্রীর মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। রঘু ডাকাতের প্রসঙ্গ ধরে তিনি প্রশ্ন তোলেন, পুলিশ যদি ডাকাতের মতো কালীকে প্রণাম করে অভিযানে যায়, তা হলে সাধারণ মানুষ পুলিশের সম্পর্কে কী ধারণা করবেন?

সুজনের বক্তব্য, পুলিশের কাজ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং চোর-ডাকাতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যে পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।

কুণাল ঘোষের বক্তব্য কী?

এই বিতর্কে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের বক্তব্য, কোনও পুলিশকর্মী ব্যক্তিগত আগ্রহ থেকে কালীপুজো করলে সেটি তাঁর নিজস্ব বিষয়। কিন্তু সরকারের তরফে নির্দেশ দিয়ে কালীপুজো করানো ঠিক নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁর বক্তব্যের মধ্যে ধর্মীয় দিক খোঁজার প্রয়োজন নেই। তাঁর দাবি, কালীপুজো বাঙালি সংস্কৃতির অংশ। মন্ত্রীর কথায়, “পুলিশ ক্ষমতা পায় শক্তি থেকে, আর তা হল কালীশক্তি।”

এই বিষয়ে বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদিত রাজ বুন্দেশের বক্তব্য জানা যায়নি।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.