কলকাতা: কালীপুজোর আগে বাজি ও ফানুস ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করল রাজ্য পুলিশ-প্রশাসন। ফানুস বা এয়ার বেলুন ওড়ানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মানার বার্তা দিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তা। তাঁর বক্তব্য, অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়া ফানুস ওড়ানোর ঘটনায় অতীতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেই ধরনের বিপদ এড়াতেই এ বার ফানুস ব্যবহারে নিয়ম মেনে চলার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
কালীপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে বুধবার রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের বৈঠক হয়। পরে নবান্নে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে উৎসবের দিনগুলিতে নিরাপত্তা, বাজি নিয়ন্ত্রণ এবং শব্দদূষণ রোধে একাধিক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়।
ফানুস ওড়ানোর ক্ষেত্রে কী বার্তা পুলিশের?
কালীপুজোর মরশুমে বাড়ির ছাদ, খোলা মাঠ কিংবা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ফানুস ওড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু ফানুসের আগুন থেকে অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া উড়ন্ত ফানুস বিদ্যুতের তার বা বিমান চলাচলের ক্ষেত্রেও বিপদ ডেকে আনতে পারে।
রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তা জানিয়েছেন, ফানুস বা এয়ার বেলুন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে। তবে কোথায়, কী ধরনের অনুমতি বা লাইসেন্স প্রয়োজন, সে বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশিত হলে নিয়মের পূর্ণ পরিধি স্পষ্ট হবে।
গ্রিন বাজি ব্যবহারে জোর
নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন বাজি ব্যবহারের উপর জোর দেন। নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে নজরদারি চালানো হবে বলেও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রসচিবের বক্তব্য, উৎসবের আনন্দ যেন অন্যের অসুবিধা বা দুঃখের কারণ না হয়। শুধু প্রশাসনিক কড়াকড়ি নয়, সাধারণ মানুষের সচেতনতাও শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।
হাসপাতাল, স্কুল-কলেজের কাছে শব্দবাজি নয়
সাইলেন্ট জোন বা নীরব এলাকায় শব্দদূষণ রোধে বিশেষ সতর্কতার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ ও বৃদ্ধাশ্রমের মতো সংবেদনশীল এলাকার ১০০ মিটারের মধ্যে শব্দবাজি ফাটানো যাবে না বলে সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়েছে। এই সব এলাকায় নীরবতা বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে হাসপাতালের রোগী, প্রবীণ নাগরিক, শিশু এবং পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখে বাজি ব্যবহারে দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ জানাতে চালু হবে কন্ট্রোল রুম
কালীপুজোর আগে বাজি সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণের জন্য কন্ট্রোল রুম চালুর কথাও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব। নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি বা ব্যবহারের অভিযোগ পেলে প্রশাসনকে তা জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ।
উৎসবের দিনগুলিতে নিষিদ্ধ বাজির বিরুদ্ধে অভিযান, নজরদারি ও পুলিশি টহল চলবে। প্রশাসনের লক্ষ্য, কালীপুজোর আনন্দ বজায় রেখেই অগ্নিকাণ্ড, দুর্ঘটনা ও শব্দদূষণের ঝুঁকি কমানো।
সব মিলিয়ে, কালীপুজোর আগে ফানুস ও বাজি ব্যবহারে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে রাজ্য পুলিশ-প্রশাসন। নিয়ম মেনে উৎসব পালন এবং অন্যের নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখাকেই এ বার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।