কলকাতা: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপি। নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে প্রার্থী করেছে পদ্মশিবির। অন্য দিকে, রেজিনগরে দলের প্রার্থী হয়েছেন মুর্শিদাবাদের প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্য কমিটির সদস্য শাখারভ সরকার।
গত ৪ মে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দু’দিন পর, ৬ মে মধ্যমগ্রামে গুলিতে খুন হন শুভেন্দুর তৎকালীন আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। গাড়িতে চালকের পাশের আসনে বসেছিলেন তিনি। বাইকে করে এসে আততায়ীরা গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনায় চালকও জখম হন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা চন্দ্রনাথকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রথমে রাজ্য পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে। পরে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায়।
চন্দ্রনাথের পৈতৃক বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন শুভেন্দু। চন্দ্রনাথের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে গিয়ে বিচার হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় শুভেন্দুর উপর আস্থা রাখার কথা জানিয়েছিলেন হাসিরানিও। এ বার সেই হাসিরানিকেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে প্রার্থী করল বিজেপি।
মনোনয়ন জমা বুধবার
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর। বিজেপির প্রার্থী ঘোষণার আগে থেকেই নন্দীগ্রামে হাসিরানির নাম নিয়ে জল্পনা ছিল।
মঙ্গলবার সকালে নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ার সিদ্ধেশ্বর শিবমন্দির এবং জানকীনাথ মন্দিরে পুজো দেন হাসিরানি। প্রার্থী হওয়ার কথাও জানান তিনি। মঙ্গলবারই হলদিয়া মহকুমা দফতরে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা তাঁর। সেখানে শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত থাকতে পারেন।
হাসিরানি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা পেয়েছি। আশা করছি আমাদের দলের সংগঠনের সহযোগিতা পাব। এলাকার মানুষ যা চাইছেন, তার বেশিরভাগ কাজই এখানকার দু’বারের বিধায়ক তথা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী করে ফেলেছেন। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে চেষ্টা করব, নন্দীগ্রামকে কী ভাবে খুশি করা যায়।”
দুই কেন্দ্রে বহুমুখী লড়াই
ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে বাম, কংগ্রেস এবং তৃণমূলের দুই শিবির প্রার্থী ঘোষণা করেছে। নন্দীগ্রামে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে এবং ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থী মহম্মদ এহেতাশ মুল হক। সিপিআইয়ের প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি এবং কংগ্রেসের মিলন প্রধান।
রেজিনগরে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী এবং ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থী শেখ সফিউদ্দিন জামান। সিপিএমের সইদ আসাদ আলি ও কংগ্রেসের আব্দুল্লাহিল কাফিও লড়ছেন। আসনরফা নিয়ে মতানৈক্যের জেরে রেজিনগরে আলাদা ভাবে প্রার্থী দিয়েছে আরএসপি। তাদের প্রার্থী বিকাশচন্দ্র মিশ্র। পাশাপাশি আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে লড়ছেন হুমায়ুন কবীরের পুত্র গোলাম নবি আজাদ ওরফে রবিন।
কেন উপনির্বাচন?
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন হচ্ছে।
একই ভাবে রেজিনগর ও নওদা—দুই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর। তিনি রেজিনগর আসন ছেড়ে দেওয়ার পর ওই কেন্দ্রেও উপনির্বাচন হচ্ছে। আগামী ৯ অক্টোবর দুই কেন্দ্রের ফল ঘোষণা হবে।
তবে উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে এখনও জটিলতা রয়েছে। কালীঘাট না ঋতব্রত—কোন শিবির জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে লড়বে, নাকি দুই শিবিরকেই অস্থায়ী প্রতীক দেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।