জনসচেতনতা বৃদ্ধি থেকে সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া—একাধিক কর্মসূচিকে এক ছাতার তলায় এনে রাজ্যজুড়ে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ পালনের নির্দেশ দিল নবান্ন। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই অভিযান। রাজ্যের সমস্ত দফতর, জেলা প্রশাসন, পুরসভা এবং ব্লক প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নবান্নের গাইডলাইন অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া, নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে সূচনা
১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ কর্মসূচির মাধ্যমে অভিযানের সূচনা হবে। সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একযোগে প্রদীপ প্রজ্বলনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ৫০ হাজার প্রদীপ সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে জেলা ও ব্লক প্রশাসন। পাশাপাশি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও নাগরিকদের অংশগ্রহণে প্রদীপ প্রজ্বলনের আয়োজন করা হবে।
স্কুল-কলেজে নানা কর্মসূচি
১৭ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর চলবে ‘আমার স্বপ্নের ভারত—চিত্র সেবা’। স্কুল ও উচ্চশিক্ষা দফতরের উদ্যোগে বক্তৃতা, অঙ্কন, প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা এবং প্রদর্শনীর মতো কর্মসূচিতে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের যুক্ত করা হবে।
একই সময়ে ‘নমো সেবা—অজানা কাহিনি’ কর্মসূচিতে সঙ্গীত ও নাট্য পরিবেশনের মাধ্যমে জনসেবা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে।
এর আগে ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে হবে ‘অন্ন মিলন সেবা’। পুষ্টি, স্বাস্থ্য এবং মহিলা-কেন্দ্রিক প্রকল্পে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হবে।
উপভোক্তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবে প্রশাসন
১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর চলবে ‘সেবার কাহিনি’। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া মানুষের অভিজ্ঞতা ভিডিও, রিল, ছবি ও লেখার মাধ্যমে সংগ্রহ করবে জেলা প্রশাসন।
২০ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর ‘সেবায় আমার যোগদান’ কর্মসূচিতে পরিবেশ, বৃক্ষরোপণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করা হবে। যোগ্য উপভোক্তাদের শিবির থেকেই বিভিন্ন প্রকল্পে নথিভুক্ত করার ব্যবস্থাও থাকবে।
শেষ পর্বে উদ্ভাবনের উপর জোর
অভিযানের শেষ পর্যায়ে ৬ অক্টোবর ‘সেবার রঙে, দেশের সঙ্গে’, ৭ অক্টোবর ‘সেবা জ্যোতি কলস যাত্রা’ এবং ৯ অক্টোবর ‘সেবা ফার্স্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’ পালিত হবে।
শেষ কর্মসূচিতে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, শিল্প-বাণিজ্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং ক্রীড়া-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী উদ্যোগ তুলে ধরা হবে। এই কর্মসূচির অন্যতম আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে কলকাতাকে প্রস্তাব করা হয়েছে।