মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনকাণ্ডে বড় সাফল্য পেল তদন্তকারী দল। উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিন জন শার্প শুটারকে। রবিবার গভীর রাতে তাদের কলকাতায় নিয়ে এসে ভবানীভবনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে তদন্তকারীরা। সোমবার বারাসত আদালতে ধৃতদের তোলা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, খুনের পর আততায়ীরা উত্তরপ্রদেশে পালিয়ে গিয়ে গা ঢাকা দিয়েছিল। তদন্তকারীরা ডিজিটাল লেনদেনের সূত্র ধরে তাদের খোঁজ পান। জানা গিয়েছে, খুনের দিন বালি টোলপ্লাজায় ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টোল দেওয়া হয়েছিল। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করেই উত্তরপ্রদেশে পৌঁছয় তদন্তকারী দল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যে গাড়িটি চন্দ্রনাথ রথের গাড়ির পথ আটকেছিল, সেটি ঝাড়খণ্ডের নম্বরের। ওই গাড়ি বালি টোল প্লাজা হয়ে মধ্যমগ্রামে ঢুকেছিল। টোলের ইউপিআই লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মালিকের খোঁজ চলছে। পাশাপাশি, ঘটনার আগে ও পরে এলাকার মোবাইল ফোনের কল ডিটেলসও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের অনুমান, এই খুনের পরিকল্পনা অন্তত দেড় মাস আগে করা হয়েছিল। ধৃতদের কে বা কারা সুপারি দিয়েছিল, তা এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু। চন্দ্রনাথ রথের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে কারও কোনও বিরোধ হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে গুলি করে খুন করা হয় চন্দ্রনাথ রথকে। ঘটনার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সহায়ককে খুনের ঘটনায় প্রশাসনের উপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়।