পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক থেকেই বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে অনুষ্ঠিত হয় নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত পাঁচ মন্ত্রী এবং রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তারা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু জানান, রাজ্যের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সংস্কারের লক্ষ্যে মোট ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ডবল ইঞ্জিন সরকার দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করবে। দীর্ঘদিন পরে বাংলায় ভয়মুক্ত ও অবাধ নির্বাচন হয়েছে।” পাশাপাশি ভোটকর্মী, গণনাকর্মী, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
প্রথম সিদ্ধান্ত হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, বিজেপির দাবি অনুযায়ী রাজনৈতিক হিংসায় নিহত ৩২১ জন বিজেপি কর্মীর পরিবারের দায়িত্ব নেবে রাজ্য সরকার। দ্বিতীয় সিদ্ধান্তে সীমান্ত নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে কাঁটাতার নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করা হবে। তাঁর দাবি, “রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে, তাই সীমান্ত রক্ষা অত্যন্ত জরুরি।”
তৃতীয় সিদ্ধান্তে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে যুক্ত হওয়ার কথা ঘোষণা করে। ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’, ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’ এবং ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর মতো প্রকল্প এবার বাংলাতেও কার্যকর করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি চতুর্থ সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, এতদিন রাজ্যের আইএএস ও আইপিএস অফিসারদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণে যে বাধা ছিল, তা তুলে দেওয়া হচ্ছে।
পঞ্চম সিদ্ধান্তে শুভেন্দু জানান, রাজ্যে এখন থেকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা নতুন ফৌজদারি আইন কার্যকর হবে। তাঁর অভিযোগ, এতদিন অসাংবিধানিক ভাবে পুরনো আইপিসি চালু রাখা হয়েছিল। ষষ্ঠ সিদ্ধান্ত হিসেবে সরকারি চাকরির আবেদনকারীদের বয়সসীমা পাঁচ বছর বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়। এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পূর্বতন সরকার প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষেত্রে বহু ক্ষতি করে গিয়েছে। তবে বর্তমানে চলতে থাকা কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি। আগামী সপ্তাহ থেকে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর নিয়ে নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠক করবেন দিলীপ ঘোষ ও অগ্নিমিত্রা পাল।