সংগঠনগত দুর্বলতা স্বীকার করেও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে আত্মবিশ্বাসী কংগ্রেস। ২৯৪টি আসনেই এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার ঝুঁকি নেওয়ার পরও দল দাবি করছে, অন্তত ২০০টি আসনে তাদের ভোটের শতাংশ বাড়বে। পাশাপাশি, ৮টি আসনে জয়ের সম্ভাবনাও দেখছে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। এই প্রেক্ষাপটে ফলাফলের পরে রাজ্যে সরকার গঠনে কংগ্রেস ‘কিংমেকার’ হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক গোলাম মীর জানিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেস এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে তাদের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। তাঁর কথায়, “সেই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে।” এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোট জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও সংগঠনের দুর্বলতার কারণে অনেক আসনে বুথ এজেন্ট দেওয়াও সম্ভব হয়নি বলে জানা যাচ্ছে।
মীর আরও দাবি করেছেন, এক্সিট পোলের ফলাফল বাস্তবের সঙ্গে মিলবে না। তাঁর মতে, বাংলায় ‘সাইলেন্ট ভোটিং’ হয়েছে, যেখানে ভোটাররা নিজেদের মতামত প্রকাশ্যে আনেননি। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে তিনি মনে করছেন। তাঁর দাবি, রাজ্যের মহিলাদের একটি বড় অংশ তৃণমূলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, যার প্রভাব ফলাফলে পড়তে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, উত্তরবঙ্গের মালদহ, দুই দিনাজপুর ও মুর্শিদাবাদ জেলায় কংগ্রেস কিছুটা ভালো ফল করতে পারে। শ্রীরামপুর আসন নিয়েও আশাবাদী দল। যদিও বাকি আসনগুলিতে জয়ের সম্ভাবনা কম হলেও ভোটের হার বাড়বে বলেই আশা নেতৃত্বের। এদিকে, গণনা পর্বের জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে কংগ্রেস। সম্ভাব্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি মাথায় রেখে কর্মী ও এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক চলছে। ফলাফল ঘোষণার দিন কী পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।