দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে বড় রাজনৈতিক মোড়। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’ মঙ্গলবার ঘোষণা করলেন, তিনি আর এই নির্বাচনে লড়ছেন না।
মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিক বৈঠক করে জাহাঙ্গির বলেন,“ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আমি এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।”
তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় ইভিএমে তাঁর নাম থাকছেই। ফলে ভোটগ্রহণে তাঁর প্রতীক ও নাম দেখা যাবে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতায় বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে রোড শো করেন। অন্যদিকে প্রচারে না গিয়ে নিজের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করেন জাহাঙ্গির। সেখানে তিনি বলেন,
“আমি ফলতার ভূমিপুত্র। চাই ফলতা শান্তিতে থাকুক, সুস্থ থাকুক এবং আরও উন্নয়ন হোক।”
কথা বলতে বলতে আবেগপ্রবণও হয়ে পড়েন তিনি। জানান,
“আমার স্বপ্ন ছিল সোনার ফলতা। সেই কারণে উন্নয়নের স্বার্থে আমি এই লড়াই থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি।”
তবে এই সিদ্ধান্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি জাহাঙ্গির। সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে তিনি বারবার উন্নয়নের প্রসঙ্গই তোলেন।
গত ২৯ এপ্রিল বিধানসভা ভোটে ফলতার একাধিক বুথে কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। ইভিএমে আতর, কালি ও টেপ লাগানোর অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলেছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পরে নির্বাচন কমিশন ফলতায় পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়।
৪ মে রাজ্যের বাকি ২৯৩টি আসনের ফল প্রকাশ হয় এবং প্রথম বার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে বিজেপি সরকার।
ভোটের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় প্রচার করলেও ফলতা কেন্দ্রে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি জাহাঙ্গিরকে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ দফার ভোটের আগে তাঁর হয়ে প্রচার করেছিলেন। কিন্তু পুনর্নির্বাচনের আগে তৃণমূলের কোনও বড় নেতাকে আর জাহাঙ্গিরের পাশে দেখা যায়নি।
অন্যদিকে বিজেপি শিবির ফলতায় ব্যাপক প্রচার চালায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সভা থেকে ‘ভাইপোর পুষ্পা’র বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন। পাশাপাশি ফলতার জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এরই মধ্যে সোমবার কলকাতা হাই কোর্টে গিয়ে গ্রেফতারি এড়াতে রক্ষাকবচ নেন জাহাঙ্গির। আর ভোটপ্রচারের শেষ দিনেই জানিয়ে দিলেন, তিনি আর এই লড়াইয়ে নেই।
ফলতার ভোটে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জাহাঙ্গির বলেন, “আমি কমিশনের নিয়ম মেনে ভোট পরিচালনা করেছি। কোথাও কারচুপির নির্দেশ দিইনি। ফলতার মানুষের সঙ্গে কখনও খারাপ ব্যবহার করিনি।”