ফের বাড়ল পেট্রল ও ডিজেলের দাম। গত ১০ দিনের মধ্যে চতুর্থবার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা হওয়ায় চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সোমবার থেকে কলকাতায় প্রতি লিটার পেট্রলের দাম বেড়েছে ২ টাকা ৮৭ পয়সা এবং ডিজেলের দাম বেড়েছে ২ টাকা ৮০ পয়সা। নতুন দরে কলকাতায় এক লিটার পেট্রলের দাম হয়েছে ১১৩ টাকা ৫১ পয়সা এবং ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৯ টাকা ৮২ পয়সায়।
ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পর থেকেই দফায় দফায় বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। গত ১৫ মে এক ধাক্কায় প্রায় ৩ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল। এরপর ১৯ মে আরও ৯০ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়। ২৩ মে ফের ৮৭ পয়সা দাম বাড়ে। সোমবারের নতুন বৃদ্ধির পর মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে ৭ টাকারও বেশি বেড়ে গেল পেট্রল ও ডিজেলের দাম।
শুধু কলকাতাই নয়, দেশের অন্যান্য মহানগরীতেও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। দিল্লিতে পেট্রলের দাম বেড়েছে ২.৬১ টাকা এবং ডিজেলের দাম ২.৭১ টাকা। সেখানে নতুন দাম হয়েছে যথাক্রমে ১০২.১২ টাকা ও ৯৫.২০ টাকা। মুম্বইয়ে পেট্রলের দাম বেড়ে হয়েছে ১১১.২১ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৯৭.৮৩ টাকা। চেন্নাইতেও পেট্রল ও ডিজেলের দামে বড় বৃদ্ধি হয়েছে।
ক্রমাগত জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে উদ্বেগ বাড়ছে পরিবহণ ক্ষেত্রেও। বাস মালিক ও চালকদের সংগঠন ইতিমধ্যেই ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে সরকারের কাছে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে শুধু পরিবহণ খরচই নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তে শুরু করে। ইতিমধ্যেই দুধ, রুটি-সহ একাধিক পণ্যের দামে বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলছে বাজারে।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির জেরেই এই পরিস্থিতি বলে দাবি করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রায়ত্ত তৈল সংস্থাগুলি দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। ভোট মিটতেই সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের অভিযোগ।
জ্বালানির লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিতে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় চিন্তায় সাধারণ মানুষ।