ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারদের তালিকা তৈরি হলে তাঁর নাম প্রথম সারিতেই থাকবে। সেই কিংবদন্তি গারফিল্ড ‘গ্যারি’ সোবার্স আর নেই। শুক্রবার ৮৯ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের এই প্রাক্তন অধিনায়ক। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে।
ব্যাট হাতে যেমন বিধ্বংসী, তেমনই বল হাতে সমান কার্যকর। নতুন বল, বাঁহাতি স্পিন, চিনাম্যান কিংবা লেগস্পিন—সব ধরনের বোলিং করতে পারতেন সোবার্স। মাঠে দুর্দান্ত ফিল্ডিংও তাঁকে আলাদা উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল। সেই কারণেই তাঁকে বলা হত ‘কিং ক্রিকেট’।
১৯৫৩ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে বার্বাডোজের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাঁর। এক বছরের মধ্যেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ় জাতীয় দলে সুযোগ পান। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৩৬৫ রানে অপরাজিত থেকে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস লিখেছিলেন সোবার্স। দীর্ঘ ৩৬ বছর সেই রেকর্ড অটুট ছিল। ১৯৯৪ সালে ব্রায়ান লারা সেটি ভাঙেন।
তবে শুধু এই ইনিংস নয়, ১৯৬৮ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক ওভারে ছ’টি ছক্কা হাঁকিয়ে আরেকটি অবিস্মরণীয় নজির গড়েছিলেন তিনি। বিশ্বের প্রথম ব্যাটার হিসেবে এই কীর্তি গড়ে ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের নাম চিরস্থায়ী করে যান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের জার্সিতে ৯৩টি টেস্ট ম্যাচে ৮,০৩২ রান করার পাশাপাশি ২৩৫টি উইকেট নিয়েছেন সোবার্স। তাঁর ব্যাটিং গড় ৫৭.৭৮, যা টেস্ট ইতিহাসে অন্যতম সেরা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর সংগ্রহ ২৮ হাজারের বেশি রান এবং এক হাজারেরও বেশি উইকেট—যা তাঁর অলরাউন্ড প্রতিভার অনন্য প্রমাণ।
১৯৭৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান তিনি। ক্রিকেট বিষয়ক বিখ্যাত পত্রিকা উইসডেন পরে লিখেছিল, দীর্ঘদিনের শারীরিক ধকল ও মানসিক ক্লান্তির কারণেই তিনি খেলা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ক্রিকেটার স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান একবার সোবার্সকে নিয়ে বলেছিলেন, “আমার দেখা অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার।” আর প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার রিচি বেনো তাঁকে আখ্যা দিয়েছিলেন বিশ্বের অন্যতম সম্পূর্ণ ক্রিকেটার হিসেবে।
গ্যারি সোবার্সের প্রয়াণে ক্রিকেট হারাল এমন এক মহাতারকাকে, যাঁর কৃতিত্ব, রেকর্ড এবং খেলার ধরন প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।