পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগের উদ্যোগ। পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদনের নতুন কারখানা গড়তে চলেছে অ্যাডপার্মা প্রাইভেট লিমিটেড। সংস্থাটি হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের সম্পূর্ণ সহযোগী প্রতিষ্ঠান। বুধবার এই কারখানার উদ্বোধন করার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। নতুন এই প্রকল্প চালু হলে রাসায়নিক শিল্পে হলদিয়ার গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
৬ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ
হলদিয়ায় নতুন কারখানা তৈরির জন্য বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অ্যাডপার্মা। এই প্রকল্পে মূলত অ্যাসিটোন উৎপাদনের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি, ফেনল ও অ্যাসিটোনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিকের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।
হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের শিল্প পরিকাঠামো এবং সমন্বিত উৎপাদন ব্যবস্থার সুবিধা এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। নতুন কারখানার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়লে বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় রাসায়নিকের জোগান আরও মসৃণ হওয়ার আশা রয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ ফেনল ও অ্যাসিটোন?
ফেনল ও অ্যাসিটোন বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক উপাদান। এগুলি ওষুধ, প্লাস্টিক, রেজিন এবং অন্যান্য রাসায়নিক পণ্য তৈরির মতো একাধিক ক্ষেত্রে কাজে লাগে। ফলে এই ধরনের রাসায়নিকের উৎপাদন বাড়লে সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলির সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের অন্যতম বড় শক্তি হল তার সমন্বিত উৎপাদন পরিকাঠামো। একই শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন থেকে প্যাকেজিং ও বণ্টনের মতো একাধিক কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ থাকায় সংস্থাটি উপকৃত হয়। এই ব্যবস্থার সুবিধা শুধু পশ্চিমবঙ্গেই সীমাবদ্ধ নয়, দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলেও তার প্রভাব পড়ে।
বিশ্বজুড়ে সরবরাহের অনিশ্চয়তার মধ্যে বাড়ছে গুরুত্ব
ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার উপর চাপ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশীয় উৎপাদন ও শিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
হলদিয়ায় নতুন বিনিয়োগ সেই প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রাসায়নিক উৎপাদনের পরিকাঠামো সম্প্রসারিত হলে দেশীয় শিল্পের চাহিদা পূরণে সহায়তা মিলতে পারে। একই সঙ্গে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের লক্ষ্য অনুযায়ী দেশে উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
৬ হাজার কোটি টাকার এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে হলদিয়ার শিল্প পরিকাঠামোয় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হবে। এখন নজর নতুন কারখানার উদ্বোধন, উৎপাদন শুরুর সময়সীমা এবং প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অগ্রগতির দিকে।