সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের কম দামে ওষুধের ব্যবস্থা করতে বিশেষ উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের ১৬টি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধি কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, এই কেন্দ্রগুলির পরিচালনা, পরিষেবা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিতে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এ জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কলকাতার ১১টি হাসপাতালে জনঔষধি কেন্দ্র
প্রথম পর্যায়ে যে ১৬টি হাসপাতালে এই কেন্দ্র চালু করার পরিকল্পনা হয়েছে, তার মধ্যে কলকাতার ১১টি হাসপাতাল রয়েছে। তালিকায় রয়েছে মেডিক্যাল কলেজ, এনআরএস, এসএসকেএম, আইডি হাসপাতাল, চিত্তরঞ্জন সেবা সদন, লেডি ডাফরিন ভিক্টোরিয়া, শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতাল, কলকাতা পুলিশ হাসপাতাল, স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন, ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ এবং ডা. আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজ।
কলকাতার বাইরে আরও পাঁচটি হাসপাতালে এই পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সেগুলি হল নদিয়ার কল্যাণীর গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতাল, মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ, উত্তর ২৪ পরগনার সাগর দত্ত হাসপাতাল, পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাওড়ার উলুবেড়িয়ার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল।
পরিষেবা ও রক্ষণাবেক্ষণে পিপিপি মডেল
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, জনঔষধি কেন্দ্রগুলির পরিচালনা, পরিষেবা প্রদান এবং রক্ষণাবেক্ষণ যাতে নির্দিষ্ট মান বজায় রেখে করা যায়, সেই লক্ষ্যেই পিপিপি মডেল বেছে নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত মান পূরণ করতে পারবে, এমন বেসরকারি সংস্থাকে টেন্ডারের মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে। দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কেন্দ্রগুলি চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধি কেন্দ্র প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন জেনেরিক ওষুধ সরবরাহ করা। সরকারি হাসপাতালগুলিতে এই কেন্দ্র চালু হলে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের কম দামে ওষুধ কেনার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোগ রাজ্যের
নবান্ন সূত্রে দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা রাজ্যের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই স্বাস্থ্য দপ্তর জনঔষধি কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে বলে সূত্রের খবর।
এখন নজর টেন্ডার প্রক্রিয়া কত দ্রুত শেষ হয় এবং হাসপাতালগুলিতে কবে থেকে এই কেন্দ্রগুলি চালু করা সম্ভব হয়, তার দিকে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের একাধিক বড় সরকারি হাসপাতালে রোগীরা সাশ্রয়ী মূল্যে জেনেরিক ওষুধ কেনার সুযোগ পাবেন।