তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ফের প্রকাশ্যে এল অসন্তোষের সুর। বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ ছাড়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় এবার তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন-সহ সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে চিঠি দিলেন বারাসতের সাংসদ Kakoli Ghosh Dastidar। একই সঙ্গে তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্নীতি, আরজি কর কাণ্ড এবং দলীয় সংগঠনের ভিতরে অগণতান্ত্রিক প্রভাব নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি Subrata Bakshi-কে লেখা চিঠিতে কাকলি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা তাঁর বিবেককে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তিনি লেখেন, “রেশন দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি-সহ একাধিক আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ ও অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।”
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তনী কাকলি চিঠিতে ২০২৪ সালের চিকিৎসক তরুণীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকেও উল্লেখ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ওই ঘটনাকে সম্ভাব্য ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা সমাজকে স্তম্ভিত করেছে এবং সেই ঘটনার অভিঘাত তিনি ব্যক্তিগতভাবেও অনুভব করেছেন।
চিঠির অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ অংশে নাম না করে দলেরই সাংসদ Kalyan Banerjee-কে নিশানা করেন কাকলি। তিনি লেখেন, “যে পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদের উপর অন্য এক জন অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা ও সহানুভূতি পাওয়া যায় না, সে পদে থাকার মানে হয় না।”
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। চিঠির দ্বিতীয় অংশে তৃণমূলের ভোটকৌশলী সংস্থা আই-প্যাককেও একপ্রকার আক্রমণ করেছেন কাকলি। তাঁর বক্তব্য, আই-প্যাক নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে নানা অভিযোগ উঠেছে এবং সেই বিষয়গুলিও তাঁকে বিচলিত করেছে। তিনি লেখেন, “যদি কোনও অস্বচ্ছ ও অগণতান্ত্রিক প্রভাব ক্রমশ সংগঠনের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে, তবে তা দলের আদর্শ ও ঐতিহ্যের পক্ষে শুভ হতে পারে না।”
তবে কাকলি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা অভিমান থেকে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেননি। তাঁর কথায়, দল, গণতন্ত্র এবং মানুষের প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিচ্ছেন। এখন থেকে তিনি দলের সাধারণ কর্মী হিসেবেই কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় কাকলিকে। সেই দায়িত্ব ফের দেওয়া হয় শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এরপরই সমাজমাধ্যমে অভিমানী পোস্ট করেছিলেন কাকলি। লিখেছিলেন, “৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪-তে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।”
রবিবার বারাসত সাংগঠনিক জেলা সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফা দেন তিনি। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari-র প্রশাসনিক বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন কাকলি। তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। যদিও কাকলির বক্তব্য ছিল, প্রশাসন সবার এবং সেখানে দলীয় ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। এই ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের অস্বস্তি আরও প্রকাশ্যে এল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।