দ্বিতীয় দফার ভোটে ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিতে এসে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ ভোট দিয়ে বেরিয়ে তিনি দাবি করেন, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের নামে দিনভর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অত্যাচার চালানো হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, “এটা কি আদৌ ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচন?”
মমতার অভিযোগ, বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের এজেন্টদের বুথ থেকে বার করে দেওয়া হয়েছে এবং বহু জায়গায় মহিলা ও শিশুদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তিনি জানান, নদিয়া, আরামবাগ, খানাকুল, গোঘাট এবং ক্যানিং-সহ একাধিক এলাকায় মঙ্গলবার রাত থেকেই অশান্তি শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, দলের বহু কর্মীকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রে দাঁড়িয়েই কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। মমতার বক্তব্য, তাঁর বুথে রাজ্য পুলিশের উপস্থিতি ছিল না, শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনীই ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, বাহিনী তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তা গণতন্ত্রের পক্ষে উদ্বেগজনক।
দিনের শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলেন ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী। সকালেই কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে চেতলা, চক্রবেড়িয়া-সহ একাধিক এলাকায় বুথ পরিদর্শন করেন। তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম-এর সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। জানান, সারা দিন তিনি প্রার্থী হিসেবে এলাকাতেই থাকবেন। অন্যদিকে ভবানীপুর কেন্দ্রে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী-ও দিনভর বিভিন্ন বুথে ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মবিশ্বাসী সুরে জানান, সমস্ত বাধা সত্ত্বেও তৃণমূল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হবে। ভোট দিয়ে বেরিয়ে ‘ভিক্ট্রি’ চিহ্ন দেখিয়ে কালীঘাট মন্দিরে যান তিনি।