বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন খড়দহের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই একাধিক ইস্যু তুলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে কটাক্ষ, অভিযোগ এবং পাল্টা চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে ভোটের লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, আগে তিনি নিজেকে ‘চাওয়ালা’ বলতেন, এখন ‘ঝালমুড়ি’ খাওয়ার কথা বলছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, “ঝালমুড়ি খেলেন, এবার মাছটা খেয়ে দেখবেন নাকি?” এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিন শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের পর ইভিএম সরানোর সময় কারচুপির চেষ্টা হতে পারে। তাই কর্মী-সমর্থকদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ইভিএম-এর উপর নজরদারি রাখতে হবে এবং প্রয়োজন হলে পাহারা দিতে হবে।
একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, “এজেন্সির ক্ষমতা বড় না মানুষের ক্ষমতা বড়—তা দেখা যাবে।” পাশাপাশি বাংলার প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ তুলে তিনি স্পষ্ট করে দেন, গণতান্ত্রিক পথে ভোটের মাধ্যমেই তার জবাব দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ঝাড়গ্রামে সফরের সময় নরেন্দ্র মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই খড়দহের সভা থেকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন মমতা। তিনি বলেন, নিজ হাতে রান্না করে মাছ-ভাত খাওয়াবেন। পাশাপাশি বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে কটাক্ষ করে ‘নাড়ু পাঠানোর’ কথাও বলেন। ফলে ভোটের আগে এই মন্তব্যগুলি রাজনৈতিক লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।