ভোটের আবহে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াল তৃণমূল কংগ্রেসের বিস্ফোরক দাবি। দলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গকে ঘিরে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘গোপন বৈঠক’ ডেকেছেন। এই দাবি সামনে এনে তৃণমূল আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, আগামী ১৫০ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যে বড় কোনও ঘটনা ঘটতে পারে।
সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন বলেন, তাঁদের কাছে নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর রয়েছে—এই বৈঠকে সিবিআই, ইডি এবং এনআইএ-র শীর্ষ আধিকারিকদের ডাকা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বাংলাকে কেন্দ্র করেই এই বৈঠকের মূল আলোচনা। এরপরই তিনি দাবি করেন, দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়—বিশেষ করে দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি ও কলকাতায়—কোনও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
তৃণমূলের অভিযোগ, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে হারাতে বিজেপি মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং সেই কারণেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ডেরেকের কথায়, একদিকে একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, আধাসামরিক বাহিনী ও তদন্তকারী সংস্থা—অন্যদিকে একা একজন মহিলা নেত্রী—এই লড়াইয়ে ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট।
ভোটের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল। দলের অভিযোগ, ইডি, সিবিআই ও আয়কর দফতরের মাধ্যমে তাদের নেতা-মন্ত্রীদের নিশানা করা হচ্ছে। বিভিন্ন জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীও অভিযোগ করেছেন, দলীয় নেতাদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ আগেই খারিজ করেছে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে, সম্ভাব্য গ্রেফতারির আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই প্রায় ৮০০ দলীয় নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন জানিয়েছে তৃণমূল। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে তারা। সব মিলিয়ে ভোটের মুখে শাহকে ঘিরে ‘গোপন বৈঠক’-এর দাবি নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়িয়েছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।