দ্বিতীয় দফার ভোটে সকাল সকালই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে এ দিন তিনি জানিয়ে দেন, সারাদিন নিজের কেন্দ্রেই থাকবেন এবং বুথে বুথে ঘুরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। সাধারণত ভোটের সকালে বাড়িতে থাকলেও এ দিন সেই রেওয়াজ ভেঙে সরাসরি মাঠে নামেন তিনি।
সকালেই কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে চেতলা, তারপর পদ্মপুকুর রোড ও চক্রবেড়িয়া এলাকায় একাধিক বুথ পরিদর্শন করেন মমতা। একটি বুথের সামনে গাড়ি থামিয়ে নেমে সরাসরি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। পরে তিনি জানান, ভোটের দিন তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং ভবানীপুরের প্রার্থী হিসেবেই মাঠে রয়েছেন।
এদিন কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সরব হন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, কিছু পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং বাহিনী নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে। তিনি আরও দাবি করেন, বাইরে থেকে আসা লোকজন তাঁর কেন্দ্রে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছে এবং তৃণমূল কর্মীদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
চেতলা এলাকায় গিয়ে তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম-এর সঙ্গে দেখা করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, গভীর রাতে বাড়িতে গিয়ে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়েছেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের পতাকা খুলে ফেলা হচ্ছে এবং দলের কর্মীদের আটকানো হচ্ছে।
অন্যদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে কটাক্ষ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, চাপের মুখে পড়েই ভোটের সকালে বেরোতে হয়েছে মমতাকে।
ভবানীপুর কেন্দ্রের লড়াইকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। সকাল থেকেই দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ময়দানে সক্রিয় হওয়ায় ভোটপর্বে নজর আরও বেড়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।