পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির জেরার মুখে পড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষ। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন তিনি। এরপর টানা ১১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ইডি আধিকারিকরা।
ইডি সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদের সম্পূর্ণ রিপোর্ট ইতিমধ্যেই দিল্লির সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে রথীন ঘোষকে ফের তলব করা হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।
এদিন সিজিও কমপ্লেক্সে প্রবেশের আগে রথীন ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, “ডেকেছে, তাই এসেছি। আয়কর সংক্রান্ত যে নথিপত্র চাওয়া হয়েছিল, সেগুলো নিয়ে এসেছি।”
উল্লেখ্য, গত ১৫ মে-ও ইডির তলবে হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি। তবে ২৫ মে তলব করা হলেও তিনি হাজির হননি। এর আগে নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণ দেখিয়েও একাধিকবার হাজিরা এড়িয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক।
এবারের হাজিরাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। কারণ, রবিবার কালীঘাটে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের ৮০ জন বিধায়ককে নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ২০ জন। বাকি ৬০ জন বিধায়কের মধ্যে রথীন ঘোষও ছিলেন বলে জানা যায়।
এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে রথীন ঘোষ জানান, “আমার শরীর খারাপ ছিল, তাই বৈঠকে যেতে পারিনি।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, দলের অন্দরে কোনও অসন্তোষ বা বিভাজন নেই এবং তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের অসন্তোষ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রথীন ঘোষ বলেন, “সেটা বুঝতে পারলে অনেক কিছু হত। মানুষ চায়নি, তাই… বিভিন্ন কারণে হয়নি।” যদিও এ বিষয়ে তিনি আর বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি।
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। এবার ইডির দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।