ভোটার তালিকার বিশেষ পুনর্বিবেচনা বা এসআইআর (Special Intensive Revision) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সামনে এল। জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের এই প্রক্রিয়া আইনবিরোধী নয় এবং সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২৪ অনুযায়ী কমিশনের যে সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে, এসআইআর সেই দায়িত্ব পালনেরই অংশ।
পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পুনর্বিবেচনা করার ক্ষমতা রয়েছে এবং আইন কমিশনকে যে কোনও সময় ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনার স্বাধীনতা দিয়েছে। ফলে শুধুমাত্র এই কারণে এসআইআরকে বেআইনি বলা যাবে না যে তা সাধারণ ভোটার তালিকা সংশোধনের নিয়ম পুরোপুরি অনুসরণ করেনি।
এছাড়াও মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে— ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা বা বজায় রাখার ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাই করার ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে কি না। সেই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা প্রস্তুতের সময় নাগরিকত্ব যাচাই করতে পারে, তবে সেই ক্ষমতা শুধুমাত্র ভোটার তালিকায় নাম রাখা বা বাদ দেওয়ার প্রশ্ন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেই কাউকে বিদেশি নাগরিক বলা যাবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে না। তার মূল ভিত্তি হল সঠিক, নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য ভোটার তালিকা। কারণ ভোটার তালিকাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করে।
এসআইআরের মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াকেও আইনসম্মত বলেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় ভোটারদের নোটিস ও শুনানির অধিকার বজায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নথিপত্র যাচাইয়ের নিয়মও যুক্তিসঙ্গত এবং আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
নির্বাচন কমিশনের তরফে যে নথিগুলি চাওয়া হয়েছে, সেগুলিকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই বলা হয়েছে। আগের তুলনায় এবার আরও বেশি ধরনের নথি গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এই প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃত ভাবে মানুষকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ বলা ঠিক নয় বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, কোনও প্রক্রিয়া প্রথমে সীমাবদ্ধ বা বাদ দেওয়ার মতো মনে হলেও, যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকলে সেটিকে সংবিধানসম্মত ভাবে কার্যকর করা সম্ভব। এসআইআর সেই ভাবেই কার্যকর করা হয়েছে যাতে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা বজায় থাকে এবং নাগরিকদের অধিকারও সুরক্ষিত থাকে।
এছাড়াও স্পষ্ট করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট কখনও বলেনি যে ভোটার তালিকায় নাম থাকা মানেই কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে আর প্রশ্ন তোলা যাবে না। ভোটার তালিকায় নাম থাকা নাগরিকত্বের একটি প্রাথমিক স্বীকৃতি হলেও, প্রয়োজন হলে আইন মেনে তা যাচাই করা যেতে পারে। তবে সেই যাচাই প্রক্রিয়ায় ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পর্যবেক্ষণে আরও জানানো হয়েছে, যদি কোনও ব্যক্তির নাম ভুল করে বাদ পড়ে যায়, তাহলে তিনি পুনরায় আবেদন করার সুযোগ পাবেন এবং নির্বাচন কমিশনকে সেই আবেদন আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখতে হবে।