এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়া নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজ্যে। এই বাদ পড়া ভোটারদের ধর্মভিত্তিক হিসেব প্রকাশ করে চাঞ্চল্য তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। শাসকদলের দাবি, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে সিংহভাগই হিন্দু—সংখ্যায় যা ৬৩ শতাংশেরও বেশি। অন্যদিকে মুসলিম ভোটারের হার প্রায় ৩৪ শতাংশ।
তৃণমূলের এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশন তো ধর্মভিত্তিক কোনও তথ্য দেয়নি, তাহলে এই তথ্য শাসকদল কোথা থেকে পেল? যদিও তৃণমূলের পাল্টা বক্তব্য, তারা প্রথম থেকেই বুথস্তরে তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং সেই ভিত্তিতেই এই হিসেব করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিচারাধীন ছিল। পরে যাচাই-বাছাইয়ের পর ৭ এপ্রিল বিচারপতিদের ট্রাইব্যুনাল সেই তালিকার নিষ্পত্তি করে। তাতে দেখা যায়, ৬০ লক্ষের মধ্যে ৩২ লক্ষ ভোটার বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন, আর প্রায় ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে।
তৃণমূলের দাবি, এসআইআর-এর প্রথম ধাপেই যে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল, তার মধ্যে প্রায় ৪৪ লক্ষই ছিল হিন্দু ভোটার এবং ১৩ লক্ষের কিছু বেশি ছিল মুসলিম নাম। পরবর্তী পর্যায়েও হিন্দু ভোটারদের নামই বেশি বাদ পড়েছে বলে দাবি শাসক শিবিরের।
উদাহরণ হিসেবে ভবানীপুর কেন্দ্রের তথ্যও তুলে ধরছে তৃণমূল। তাদের হিসেব অনুযায়ী, ওই কেন্দ্রে মোট প্রায় ৫০ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩৭ হাজার হিন্দু এবং প্রায় ১২ হাজার মুসলিম।
তৃণমূলের এক মুখপাত্রের দাবি, এই তথ্য থেকেই স্পষ্ট যে বিজেপির ‘মুসলিম অনুপ্রবেশকারী’ তত্ত্ব বাস্তবের সঙ্গে মেলে না। বরং বাদ পড়া হিন্দু ভোটারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, এই ধরনের ধর্মভিত্তিক বিশ্লেষণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর কোনও সরকারি ভিত্তি নেই। এমনকি বুথস্তরের তথ্য ফাঁস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে। তার মধ্যেই এই ধর্মভিত্তিক পরিসংখ্যানের দাবি নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে।