কলকাতা: কলকাতার খিদিরপুরের একটি ক্লাবে গত ৫ ও ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়েছে ৭ম স্টেট স্কুল গেমস বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ। প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পরই আয়োজন, অফিসিয়াল নিয়োগ, ম্যাচের ফলাফল এবং অভিভাবকদের সঙ্গে ব্যবহারের ধরন নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে অভিযোগগুলির স্বাধীন সত্যতা এখনও যাচাই হয়নি এবং আয়োজকদের বক্তব্যও পাওয়া প্রয়োজন।
অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ, প্রতিযোগিতা আয়োজনের আগে ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রগ্রেসিভ বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনকে কোনও সরকারি ভাবে তথ্য দেওয়া হয়নি। অ্যাসোসিয়েশনের কাছে প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত কোনও অফিসিয়াল ই-মেল বা পূর্বতথ্য পাঠানো হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রগ্রেসিভ বক্সিং অ্যাসোসিয়েশন রাজ্যের বক্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি সংগঠন। অতীতে তাদের উদ্যোগে রাজ্য স্তরের বিভিন্ন বক্সিং প্রতিযোগিতা আয়োজনের নজিরও রয়েছে। Nawaeb Bengal ফলে স্কুল পর্যায়ের এমন প্রতিযোগিতা আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নই তুলছেন অভিযোগকারী অভিভাবকরা।
অফিসিয়াল নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অ্যামেচার বক্সিং প্রতিযোগিতায় রেফারি, জাজ বা অন্যান্য অফিসিয়াল নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও অনুমোদনের বিষয় রয়েছে। সেই জায়গায় প্রফেশনাল বক্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্যক্তিকে স্কুল স্তরের প্রতিযোগিতায় অফিসিয়াল হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকলে, তাঁর যোগ্যতা ও নিয়োগের প্রক্রিয়া কী ছিল, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে তাঁদের দাবি।
প্রতিযোগিতার কয়েকটি ম্যাচের ফলাফল ও বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন কিছু অভিভাবক। তাঁদের দাবি, কয়েকটি বাউটের সিদ্ধান্ত তাঁদের কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি। তবে এই অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এর পাশাপাশি কয়েক জন অভিভাবকের অভিযোগ, প্রতিযোগিতা চলাকালীন তাঁদের মোবাইল ফোন ১৫ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত নিয়ে রাখা হয়েছিল। ম্যাচের ছবি বা ভিডিও রেকর্ড করার ক্ষেত্রেও বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও কোনও ক্রীড়া ভেন্যুতে ছবি বা ভিডিও করার ক্ষেত্রে নিজস্ব বিধিনিষেধ থাকতে পারে, সেই নিয়ম আগে থেকে স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

অভিভাবকদের একাংশের বক্তব্য, স্কুল ও যুব পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ফলাফলের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষ বিচার এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে প্রতিযোগিতা পরিচালনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই তাঁরা বিষয়গুলি লিখিত ভাবে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কাছে জানাতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রগ্রেসিভ বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অজয় ব্যানার্জির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে অভিযোগগুলি নিয়ে অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারী অভিভাবকদের বক্তব্য, তাঁদের উদ্দেশ্য কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনকে আগেভাগে দোষী সাব্যস্ত করা নয়। বরং প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রক্রিয়া, অফিসিয়ালদের যোগ্যতা, বিতর্কিত ম্যাচের সিদ্ধান্ত এবং মোবাইল সংক্রান্ত অভিযোগ—সবকিছুর নিরপেক্ষ তদন্ত চান তাঁরা।
এখন দেখার, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলি কী ভাবে খতিয়ে দেখে এবং প্রতিযোগিতার নিয়ম ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে কী ব্যাখ্যা দেয়।