প্রথম পাতা খবর প্রয়াত সুধাংশু শীল, মতাদর্শে আপসহীন এক বামনেতা

প্রয়াত সুধাংশু শীল, মতাদর্শে আপসহীন এক বামনেতা

11 views
A+A-
Reset

প্রয়াত প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ সুধাংশু শীল। ‘মিন্টুদা’ নামে পরিচিত এই বর্ষীয়ান বাম নেতা দীর্ঘদিন কলকাতা পুরসভা ও সংসদীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

কলকাতার বাম রাজনীতির এক পরিচিত মুখ হারাল রাজ্য। প্রয়াত হলেন প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ সুধাংশু শীল। রাজনৈতিক মহলে যাঁকে সবাই ‘মিন্টুদা’ নামেই চিনতেন। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। বেশ কিছু দিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই জীবনাবসান হল তাঁর।

একটা সময় উত্তর কলকাতার বাম রাজনীতির সঙ্গে প্রায় সমার্থক হয়ে উঠেছিল সুধাংশু শীলের নাম। রাজদেও গোয়ালা, রঘুনাথ কুশারী, দিলীপ সেনদের প্রজন্মের সেই রাজনৈতিক পরিসরে ‘মিন্টুদা’ ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত এবং গ্রহণযোগ্য মুখ। সংগঠনের ভিতরে যেমন তাঁর গুরুত্ব ছিল, তেমনই সাধারণ মানুষের কাছেও তিনি ছিলেন সহজে পৌঁছনো এক নেতা।

ছাত্রজীবন থেকেই বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সুধাংশু। পরে সিপিএমের সংগঠনিক কাজে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ধীরে ধীরে কলকাতা জেলা রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিতে শুরু করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বড় অংশ জুড়ে ছিল পুর রাজনীতি। পাঁচ বার কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ২০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ হিসেবেও দায়িত্ব সামলান।

পুর রাজনীতি থেকে পরে বিধানসভা এবং সংসদ— দুই ক্ষেত্রেই নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছিলেন সুধাংশু শীল। ২০০১ সালে জোড়াবাগান কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালে অধুনালুপ্ত কলকাতা উত্তর-পশ্চিম লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ হন তিনি। সংসদে থাকাকালীন শ্রমজীবী মানুষ, শহুরে সমস্যা এবং সাধারণ মানুষের নানা ইস্যুতে সরব হতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।

২০১০ সালের কলকাতা পুরভোটে বামফ্রন্ট তাঁকেই মেয়র পদপ্রার্থী করেছিল। যদিও সেই নির্বাচনে তৃণমূলের উত্থানের সামনে বড় ধাক্কা খেয়েছিল বাম শিবির। কিন্তু রাজনৈতিক মতাদর্শে সুধাংশু শীল কখনও আপস করেননি বলেই মনে করেন তাঁর সহকর্মীরা।

রাজনীতির বাইরে ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাদামাটা মানুষ। দলের কর্মী-সমর্থকদের কাছে তাঁর ব্যবহার, সহজ-সরল জীবনযাপন এবং সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছিল।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.