প্রথম পাতা খবর ভোরে হোটেলে আগুন, আতঙ্কে পাঁচতলা থেকে নামতে গিয়ে ঝলসে গেলেন বহু পুণ্যার্থী

ভোরে হোটেলে আগুন, আতঙ্কে পাঁচতলা থেকে নামতে গিয়ে ঝলসে গেলেন বহু পুণ্যার্থী

6 views
A+A-
Reset

নিজস্ব সংবাদদাতা, তারাপীঠ: ভোররাতে হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহের এনসিবি ফেটে আগুন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে তারাপীঠের একটি হোটেলে। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় পাঁচতলা পর্যন্ত। ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনের খবর পেয়ে আতঙ্কে হোটেল থেকে বেরোতে গিয়ে বিপাকে পড়েন আবাসিকেরা। অনেকে রিসেপশনের দিকে এগোতে গিয়ে আগুনের মধ্যে পড়ে ঝলসে যান বলে হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি।

হোটেল সূত্রে খবর, ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহের এনসিবি হঠাৎ ফেটে যায়। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত। হোটেলের রাতপাহারার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের তার খুলে দেন। কিন্তু তত ক্ষণে হোটেলসজ্জায় ব্যবহৃত ফাইবারের সামগ্রীতে আগুন ধরে যায়। ফলে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

হোটেলের মালিক কল্যাণ পাল বলেন, ‘‘আমাদের এখানে রাতপাহারার দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা উঠে সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র সচল করেন। বিদ্যুৎ সরবরাহের তার খুলে দেন। কিন্তু তত ক্ষণে হোটেলসজ্জার সঙ্গে ফাইবারের যে জিনিসপত্র ছিল, তাতে আগুন ধরে যায়। আগুনটা আরও বেড়ে যায়।’’

খবর পেয়ে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে তার আগেই ধোঁয়া পাঁচতলা পর্যন্ত উঠে যায়। আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেন আবাসিকেরা। হোটেলের পিছন দিকে বেরোনোর একটি দরজা থাকলেও অনেকেই অন্ধকার এবং আতঙ্কের মধ্যে সেটি খুঁজে পাননি। ফলে রিসেপশনের দিক দিয়েই বেরোনোর চেষ্টা করেন তাঁরা। সেই সময়ই অনেকে আগুনের মধ্যে পড়ে ঝলসে যান বলে জানান হোটেল মালিক।

ঘটনার সময় পরিবার নিয়ে তারাপীঠে পুজো দিতে গিয়েছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার বাসিন্দা তপনজ্যোতি মণ্ডল। ‘বিদেশিনী’ হোটেলেই উঠেছিলেন তাঁরা। ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তপনজ্যোতি বলেন, ‘‘ভোর ৪টের সময় বাইরে খুব আওয়াজ হচ্ছিল। রিসেপশনের ডান দিকে ২ নম্বর ঘরে আমরা ছিলাম। মা আর বোন ছিল ১ নম্বর ঘরে। দরজা খুলে বেরোতে গিয়ে দেখি আগুন ঢুকে আসছে। আমরা দরজা বন্ধ করে দিই।’’

তাঁর দাবি, ঘরে কোনও জানলা ছিল না। ফলে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে শৌচালয়ে গিয়ে উপরের ফাঁকা জায়গা দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করেন তাঁরা। প্রায় ৪৫ মিনিট ঘরের মধ্যে আটকে ছিলেন তাঁরা। তপনজ্যোতি বলেন, ‘‘তারাপীঠ থানায় বারংবার ফোন করেছি। ওঁরা এসে দরজা ভেঙে আমাদের উদ্ধার করেন। আমার মা এখনও সংজ্ঞাহীন। বোনেরও চোট লেগেছে।’’

হোটেলের উপরের তলাতেও বেশ কয়েক জন আবাসিক আটকে পড়েছিলেন। নীচে আগুন থাকায় তাঁরা সিঁড়ি দিয়ে নামতে পারছিলেন না। আতঙ্কে অনেকে উপরের তলা থেকে নিজেদের জিনিসপত্র নীচে ফেলতে শুরু করেন। তবে উপরের তলায় আটকে থাকা আবাসিকদের তেমন আঘাত লাগেনি বলে জানা গিয়েছে।

মালদহ এবং আলিপুরদুয়ার থেকেও বেশ কয়েক জন পুণ্যার্থী ওই হোটেলে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। আগুনের ঘটনায় তাঁদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এখনও পর্যন্ত মৃতদের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.