কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে বহু শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঠিক কত জন ভিতরে রয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ভেঙে পড়া লোহা ও কংক্রিটের কাঠামোর নীচ থেকে এখনও মানুষের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত ৩ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর থেকেই ঘটনাস্থলে দমকল, পুলিশ, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। বিকেল পৌনে ৫টা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি এবং উদ্ধারকাজ দ্রুত করার নির্দেশ দেন।
উদ্ধারকাজে গতি আনতে ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে একাধিক ক্রেন। ৫০ টন পর্যন্ত ওজন তুলতে সক্ষম হাইড্রোলিক ক্রেনের সাহায্যে ভেঙে পড়া কাঠামোকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে নতুন করে কোনও অংশ ধসে না পড়ে। প্রাথমিক অনুমান, প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে তৈরি হচ্ছিল গুদামটি। ভিতরে কোনও আলাদা দেওয়াল বা কক্ষ না থাকায় বিশাল অংশ একসঙ্গে ভেঙে পড়ে। অতিরিক্ত চাপ সামলাতে না পেরে বহু লোহার বিম বেঁকে যায়।
প্রথমে ধ্বংসস্তূপের পিছন দিক দিয়ে মাটি কেটে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পরে হাইড্রোলিক মই ব্যবহার করে উপরের অংশ থেকে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। কংক্রিটের পুরু স্তর ও লোহার বিম কাটতে সমস্যার মুখে পড়তে হলেও কিছু অংশে ছিদ্র করে ভিতরে বাতাস পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে আটকে পড়া শ্রমিকদের অবস্থান নির্ণয় করতেও সুবিধা হচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিখোঁজদের খোঁজে স্নিফার ডগ নামানো হয়েছে। বহু শ্রমিকের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে ভিড় করেছেন। এক মহিলা জানিয়েছেন, তাঁর মাসির এখনও কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
রাতেও যাতে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রাখা যায়, তার জন্য বড় জেনারেটর আনা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পও তৈরি করা হচ্ছে। রয়েছে একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স, যাতে উদ্ধার হওয়া আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায়।
ঘটনাস্থলে রয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, ইন্দ্রনীল খাঁ, কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দেড় বছর ধরে নির্মাণকাজ চলছিল ওই গুদামে। বুধবার ছাদের ঢালাইয়ের সময় আচমকাই বিশাল কাঠামোটি ভেঙে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, সকাল থেকেই কাঠামোটি অস্বাভাবিকভাবে নড়ছিল। বিষয়টি পরীক্ষা করতে গিয়ে কয়েক জন শ্রমিক ছাদের নীচে যান। সেই সময়ই ধস নামে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বন্দর কর্তৃপক্ষের জমিতে একটি চা সংস্থার জন্য গুদামটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। ঠিকাদারও ধ্বংসস্তূপের ভিতরে আটকে পড়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।