অবিভক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশ এলেও আপাতত দলীয় তহবিল পরিচালনার অধিকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের কাছেই থাকল। সোমবার কলকাতা হাই কোর্ট আগের নির্দেশ বহাল রেখেছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, নির্বাচন কমিশন এখনও নাম ও প্রতীক নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। ফলে কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশের ভিত্তিতে আদালত আগের অবস্থান বদলাচ্ছে না।
আদালতের এই নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আদালতের নির্ধারিত ব্যবস্থার অধীনে মমতা তৃণমূল ওই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে প্রয়োজনীয় খরচ করতে পারবে। তবে অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আগের মতোই আদালতের নির্ধারিত শর্ত কার্যকর থাকবে।
নাম-প্রতীক নিয়ে কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশ
নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী, উপনির্বাচনের জন্য মমতা এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির আপাতত ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। দুই শিবিরের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কমিশনের এই ব্যবস্থা উপনির্বাচনকেন্দ্রিক অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত; দলের নাম ও প্রতীকের চূড়ান্ত অধিকার নিয়ে সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের তরফে আদালতে প্রশ্ন তোলা হয়, যে নামে মামলা করা হয়েছে, কমিশনের নির্দেশের পর সেই নামে কোনও রাজনৈতিক দলই আপাতত নেই। রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার তাই ফ্রিজ় হওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত মামলাটি গ্রহণযোগ্য কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন।
তবে আদালতের বক্তব্য, কমিশনের নির্দেশ যেহেতু অন্তর্বর্তী, তাই তহবিল সংক্রান্ত আগের নির্দেশে আপাতত পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।
কীভাবে ফ্রিজ় হয়েছিল অ্যাকাউন্ট?
তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট প্রথমে পুলিশ ফ্রিজ় করেছিল। অভিযোগ ছিল, ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে বেআইনি লেনদেন হয়ে থাকতে পারে। সেই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে যায় তৃণমূল। জুলাইয়ে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ অ্যাকাউন্টগুলির পরিচালনার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে বিশেষ আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ করে। আদালত শর্তসাপেক্ষে দলকে দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ, কর্মীদের বেতন এবং আইনি খরচের জন্য ওই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল।
আদালত একই সঙ্গে অ্যাকাউন্টগুলিতে কথিত বেআইনি লেনদেনের অভিযোগের তদন্ত করে পুলিশকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সোমবারের শুনানিতে সেই তদন্ত-রিপোর্টও আদালতে জমা দেওয়া হয়।
এর পর একই তিনটি অ্যাকাউন্টে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও পৃথক তদন্তের সূত্রে ফ্রিজ়ের নির্দেশ দিয়েছিল। ওই পদক্ষেপ নিয়ে তৃণমূল পৃথক আইনি লড়াই শুরু করে।
আপাতত বহাল আগের ব্যবস্থাই
অর্থাৎ, নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে তৃণমূলের পুরনো নাম ও প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ আপাতত নেই। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব দলীয় তহবিলের উপর পড়ছে না—এই পর্যায়ে হাই কোর্ট তার আগের ব্যবস্থাই বহাল রেখেছে।
তবে আদালতের এই নির্দেশও অন্তর্বর্তী। নির্বাচন কমিশন পরবর্তীতে দলীয় নাম ও প্রতীকের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব কী হবে, তা ভবিষ্যতের বিষয়।