পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধিবেশন এ বার থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। শুক্রবার বিধানসভায় এই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari। তাঁর বক্তব্য, বিধায়কেরা কী কাজ করছেন, তা জানার অধিকার সাধারণ মানুষের রয়েছে। সেই কারণেই বিধানসভার কার্যক্রম জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিধায়কেরা কী কাজ করছেন, তা নিয়ে ভোটারেরা অন্ধকারে থাকেন। জনগণের নজরদারি নিশ্চিত করার জন্য বিধানসভার অধিবেশন লাইভ সম্প্রচার করা হবে। বিল, বাজেট, জিরো আওয়ার, প্রাইভেট মেম্বার বিল— সবই সরাসরি দেখানো হবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক Naushad Siddiqui। পরে বক্তব্য রাখতে উঠে তিনি শুভেন্দুকে ধন্যবাদ জানান।
এর আগে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে নির্দিষ্ট কিছু দিনে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করা হলেও পুরো অধিবেশন লাইভ দেখানোর ব্যবস্থা ছিল না। বাম আমলেও বিধানসভার কার্যক্রমের সরাসরি সম্প্রচার হয়নি। তবে লোকসভা এবং রাজ্যসভার মতো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাকেও সাধারণ মানুষের কাছে আরও উন্মুক্ত করে তুলতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অন্য দিকে, সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার কথা সরাসরি শোনার জন্য ‘জনতার দরবার’ চালু করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন সূত্রে খবর, সপ্তাহে এক বা দু’দিন নির্দিষ্ট সময় ধরে এই কর্মসূচি চলবে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এক বা দু’জন শীর্ষ আধিকারিকও উপস্থিত থাকতে পারেন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, জুন মাস থেকেই এই ‘জনতার দরবার’ শুরু হতে পারে। কী ভাবে সাধারণ মানুষ সেখানে নিজেদের অভিযোগ জানাবেন এবং সেই অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে নবান্নে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এক দিকে বিধানসভার লাইভ সম্প্রচার এবং অন্য দিকে ‘জনতার দরবার’— এই দুই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশাসনে স্বচ্ছতা এবং সরাসরি জনসংযোগ বাড়ানোর বার্তা দিতে চাইছে নতুন সরকার।