দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে জনগণনার সূচি ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার জনগণনা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে তিনি জানান, আগামী ১ আগস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে জনগণনা কার্যক্রম। প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই জনগণনা পরিচালিত হবে। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সাধারণ মানুষ ‘সেলফ এনুমারেশন’ বা স্ব-গণনার মাধ্যমে অনলাইনে নিজেদের তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। গোটা জনগণনা প্রক্রিয়া চলবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
নবান্নে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, জনগণনা নিয়ে সাধারণ মানুষের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তার জন্য বিশেষ হেল্পলাইন পরিষেবা চালু করা হচ্ছে। দেশজুড়ে ব্যবহারের জন্য ১৮৫৫ নম্বরটি চালু থাকবে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের জন্য চালু করা হয়েছে ০৩৩-২৩৩৫ ৯৫০৩ নম্বরের একটি ল্যান্ডলাইন পরিষেবা। এছাড়াও জনগণনা সংক্রান্ত তথ্য জানার জন্য চালু করা হয়েছে সরকারি ওয়েবসাইট।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জনগণনা একটি সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা। বাংলায় শেষ জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। তারপর দীর্ঘদিন এই কাজ হয়নি। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে সঠিক তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য জনগণনা অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও দাবি করেন, রাজ্যের জনবিন্যাসে বড় পরিবর্তন এসেছে এবং সেই কারণেই নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ প্রয়োজন। শুভেন্দুর কথায়, “অনুপ্রবেশকারীদের কারণে জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। তাই জনগণনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর সঙ্গে রাজনীতি বা জাতপাতের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।”
অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রচুর বাংলাদেশি জনগণনার ভয়ে পালাচ্ছে। যাঁরা বর্তমানে হোল্ডিং সেন্টারে রয়েছেন, তাঁদের অনেকেই প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে পারবেন না।” যদিও তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, রাজ্যের বৈধ নাগরিকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার জনগণনায় নিযুক্ত কর্মীরা নিজেদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করবেন। তাঁদের জন্য বিশেষ অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় সার্ভারে আপলোড করা হবে, ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি হবে দ্রুত, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তিনির্ভর।
প্রায় ১৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে চলা এই জনগণনাকে প্রশাসনিক এবং নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জনসংখ্যা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আবাসন এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তৈরিতে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।