প্রথম পাতা খবর মেহুল চোক্সী কে? জানুন পিএনবি কেলেঙ্কারি ও বেলজিয়ামে তাঁর গ্রেফতারির ইতিউতি

মেহুল চোক্সী কে? জানুন পিএনবি কেলেঙ্কারি ও বেলজিয়ামে তাঁর গ্রেফতারির ইতিউতি

293 views
A+A-
Reset

১৩,০০০ কোটি টাকার পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB) ঋণ জালিয়াতি মামলার প্রধান অভিযুক্তদের একজন মেহুল চোক্সী। তাঁকে বেলজিয়ামে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির প্রত্যর্পণ অনুরোধের পর বেলজিয়াম পুলিশ শনিবার তাঁকে পাকড়াও করে। চোকসি ২০২১ সালের শেষ দিকে অ্যান্টিগুয়া থেকে পালিয়ে যান বলে শোনা যায়।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি গত দু’মাস ধরে বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছিল, যার ফলে এই গ্রেফতার সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে, তবে চোকসির আইনজীবী শারীরিক অসুস্থতার দোহাই দিয়ে জামিনের চেষ্টা করবেন বলেই ধারণা।

মেহুল চোক্সী কে?

৬৫ বছর বয়সি মেহুল চোক্সী ছিলেন একজন প্রাক্তন ভারতীয় হীরার ব্যবসায়ী এবং গীতাঞ্জলি গ্রুপের মালিক। তিনি ২০১৮ সালে পিএনবি জালিয়াতি মামলায় নাম জড়ানোর পর আলোচনায় উঠে আসেন।

এই মামলায় চোকসি, তাঁর আত্মীয় ও পলাতক হীরা ব্যবসায়ী নীরব মোদী, ব্যাংক কর্মী ও অন্যান্য সহযোগীদের বিরুদ্ধে সিবিআই ও ইডি মামলা দায়ের করে। চোকসি ২০১৭ সালে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা’র নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, সেখানকার “সিটিজেনশিপ বাই ইনভেস্টমেন্ট” প্রোগ্রামের মাধ্যমে। ২০২১ সালে তিনি ডোমিনিকায় গ্রেফতাঁর হন এবং দাবি করেন, ভারতীয় এজেন্টরা তাঁকে অপহরণ করেছিল।

পিএনবি কেলেঙ্কারি কী?

পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারি ভারতের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক জালিয়াতি। এর আর্থিক অঙ্ক প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের গোড়ার দিকে এই জালিয়াতির কথা প্রকাশ্যে আসে। মূল অভিযুক্ত ছিলেন নীরব মোদী ও মেহুল চোক্সী, যাঁরা পিএনবি-র ব্র্যাডি হাউস শাখার কিছু কর্মীর সঙ্গে যোগসাজশে জালিয়াতিটি চালান।

এই প্রতারণায় লেটার অব আন্ডারটেকিং-এর অপব্যবহার করা হয়। এলওইউ হল এমন এক ধরনের ব্যাংক গ্যারান্টি, যা বিদেশি ঋণের জন্য ব্যবহার করা হয়। ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে পিএনবি-র দুই কর্মী সুইফট সিস্টেমের মাধ্যমে এলওইউ ইস্যু করতেন, কিন্তু তা ব্যাংকের মূল রেকর্ডে নথিভুক্ত করতেন না। এর ফলে, নীরব মোদীর সংস্থাগুলি বিদেশি শাখাগুলোর কাছ থেকে জামানত ছাড়াই ঋণ তুলতে পারত।

এখন বেলজিয়ামে গ্রেফতারের পর চোকসিকে ভারতে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা মামলার অগ্রগতির পক্ষে বড় পদক্ষেপ হতে পারে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.